ময়মনসিংহে তীব্র গরমের সঙ্গ দিয়ে বাড়ছে লোডশেডিং। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরীসহ আশপাশের এলাকার মানুষ। এছাড়াও জেলার প্রতিটি উপজেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও প্রকট। দিনে-রাতে দফায় দফায় বিদ্যুৎ না থাকায় স্থবির হয়ে পড়েছে মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং শিক্ষার্থীদের কষ্ট এখন চরমে। বিশেষ করে সামনে এইচএসসি পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েকদিন ধরে নগরীর প্রায় প্রতিটি এলাকাতেই এক থেকে দেড় ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ বিভ্রাট ঘটে। একবার গেলে এক থেকে দেড় ঘণ্টার আগে বিদ্যুতের দেখা মেলে না। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দেখা দিয়েছে স্থবিরতা। একটু গরম বেশি হলেই সর্বোচ্চ লোডশেডিং দেখা দেয়। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনের বিভিন্ন সময় চার থেকে পাঁচবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। প্রতিবার কোথাও একঘণ্টা আবার কোথাও ২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে। আর গ্রামীণ বা শহরতলীর এলাকাগুলোতে ১২-১৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুৎ সরবরাহ কম হওয়ায় নগরীর চড়পাড়া, মাসকান্দা, বাঘমারা, ব্রাহ্মপল্লী, সিকে ঘোষ রোড, নাটক ঘরলেন, গাঙ্গিনার পাড়, ভাটিকাশর, নওমহল, কেওয়াটখালি, নতুন বাজার, জিলা স্কুল মোড়, পণ্ডিতপাড়া, আকুয়া, কলেজ রোড, জামতলা মোড়, সানকিপাড়া, পুলিশ লাইন, কাঠগোলা এলাকাসহ প্রায় সব এলাকায় লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে। প্রতিটি এলাকায় দিনের বেলায় তিন থেকে চারবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকে।

গাঙ্গিনার পাড় এলাকার ব্যবসায়ী মাসুম মিয়া বলেন, এমনভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে আমাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে। এসএসসি পরীক্ষার্থী নাফিজ বলেন, সামনে আমাদের পরীক্ষা। বারবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় আমাদের লেখাপড়ায় ব্যাঘাত ঘটছে। ময়মনসিংহ পাওয়ার গ্রিডের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদুল হক জানান, বিদ্যুতের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি নাই, কিন্তু বিদ্যুতের উৎপাদন কম থাকায় এবং চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিংয়ের সমস্যা হচ্ছে।