ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন বা বিতর্কের শেষ নেই। হোক সেটা প্রিমিয়ার লিগ, লা লিগা, লিগ ওয়ান কিংবা ফিফা বিশ্বকাপ। সব টুর্নামেন্টেই ভিএআর নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা চলমান থাকবেই। যেমন বসনিয়ার বিপক্ষে ২-০ গোলে যুক্তরাষ্ট্রের জয়ে নিশ্চিত হয়েছে শেষ ষোলো। সেই ম্যাচেও ভিএআরের সিদ্ধান্ত নিয়ে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ।
ভিএআরের সিদ্ধান্তে সরাসরি লাল কার্ড দেখেন যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগুন। তবে একই ধরনের ঘটনায় আলজেরিয়ার বিপক্ষে কোনো কার্ড দেখেননি আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তাই ফুটবলবিশ্বে প্রশ্ন উঠেছে, আইনের প্রয়োগ কি সবার ক্ষেত্রে এক?
শেষ ষোলোতে পা রাখলেও বালোগুনের লাল কার্ড দেখার ঘটনায় মোটেও স্বস্তিতে নেই স্বাগতিক দেশটি। প্রথমার্ধে দলের হয়ে গোল করেছিলেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত ম্যাচের ৬২ মিনিটে। বসনিয়ার ডিফেন্ডার তারিক মুহারেমোভিচের পেছনে ছিলেন বালোগান বলের দখল নিতে। মুহারেমোভিচ বল ক্লিয়ার করার মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ডের ডান পা গিয়ে পড়ে প্রতিপক্ষের ওই ফুটবলারের গোড়ালির পেছনে। প্রথমে অবশ্য কোনো ফাউল দেননি ব্রাজিলিয়ান রেফারি রাফায়েল ক্লাউস। তবে খেলা বন্ধ থাকার সময় ভিএআরের পরামর্শে তিনি সাইডলাইন মনিটরে রিপ্লে দেখেন। এরপর সিদ্ধান্ত বদলে বালোগুনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
বালোগুন মাঠ ছাড়ার পর রেফারির সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও সম্প্রচারমাধ্যমে আলোচনায় শুরু হয় আসে আর্জেন্টিনা-আলজেরিয়া ম্যাচের একটি ঘটনাও। সেই ম্যাচে লিওনেল হ্যাটট্রিক করেন লিওনেল মেসি। আলজেরিয়ার ডিফেন্ডার মান্দির গোড়ালিতে স্টাড লাগিয়েছিলেন মেসিও ওই ম্যাচে। আলজেরিয়ার খেলোয়াড়রা তাৎক্ষণিক লাল কার্ডের দাবি জানালেও কর্ণপাত করেননি পোলিশ রেফারি সিমন মার্চিনিয়াক। বাঁশি বাজান শুধু ফাউলের।
বিবিসির ধারাভাষ্যে সাবেক ইংলিশ ডিফেন্ডার রিও ফার্ডিনান্ড বলেন, এমন অসামঞ্জস্যপূর্ণ সিদ্ধান্তই ভিএআর নিয়ে মানুষের আস্থা নষ্ট করে। তার মতে, দর্শক ও খেলোয়াড়রা একই ধরনের ঘটনায় একই রকম বিচার দেখতে চান। মেসির ঘটনায় যেখানে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি, সেখানে বালোগানের ক্ষেত্রে ভিএআর হস্তক্ষেপ করে সরাসরি লাল কার্ড দেখানো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
ইংল্যান্ড নারী দলের সাবেক স্ট্রাইকার সু স্মিথও সিদ্ধান্তটিকে কঠোর বলে মনে করেন। তার ভাষায়, স্থিরচিত্রে ঘটনাটি লাল কার্ডের মতো মনে হলেও স্বাভাবিক গতিতে রিপ্লে দেখলে এটি অনেকটাই দুর্ঘটনাজনিত বলে মনে হয়। তিনি বলেন, বালুগানের পা ভুল জায়গায় পড়ে গেছে, কিন্তু সেটি ইচ্ছাকৃত ছিল বলে মনে হয়নি।
ম্যাচ শেষে যুক্তরাষ্ট্রের কোচ মরিসিও পচেত্তিনোও বিরোধিতা করেন লাল কার্ডের। তিনি বলেন, ‘বালুগানের প্রতিপক্ষকে আঘাত করার কোনো উদ্দেশ্য ছিল না, তাই এটি সরাসরি বহিষ্কারের মতো অপরাধ নয়। মেসির ঘটনাও সামনে আনা হলে পচেত্তিনো স্পষ্টভাবে জানান, তার মতে দুটি ঘটনাই লাল কার্ড পাওয়ার মতো ছিল না।’
লাল কার্ড দেখায় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করতে হবে স্বাগতিক এই ফরোয়ার্ডকে। ফলে শেষ ষোলোর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামা হচ্ছে না তার।
আইএন








