মিসরের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার দ্বিতীয় গোলটি করেই খ্যাপাটে উদ্যাপন করেছিলেন লিওনেল মেসি। গ্যালারির দিকে ছুটে আনন্দে লাফিয়েও উঠতে দেখা যায় তাঁকে। আর্জেন্টাইন তারকাকে সাধারণত গোল করে এতটা উদ্যাপন করতে দেখা যায় না।
তাহলে সেদিন কী হলো? দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও সমতায় ফেরার উচ্ছ্বাস তো ছিলই। ম্যাচের পর মেসি জানিয়েছেন, গোলটা করে একটু স্বস্তিও পেয়েছিলেন। প্রথমার্ধে পেনাল্টি মিস করার পর মেসি নাকি ভেবেছিলেন, দলকে বোধ হয় একাই ডুবিয়ে দিলেন!
পেনাল্টিতে তাঁর শটটা ঝাঁপিয়ে থামিয়ে দেন মিসরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবের। তাঁর জন্য এমন ঘটনা বিশ্বকাপে অবশ্য প্রথম নয়। এই বিশ্বকাপেই অস্ট্রিয়ার বিপক্ষেও পেনাল্টি থেকে গোল করতে পারেননি। এখন তাই অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগছে, মেসি কি সত্যিই পেনাল্টিতে অনেক খারাপ?
এই প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেওয়া একটু কঠিন। তবে পরিসংখ্যানে তাকালে কিছুটা আঁচ করা যায়। পরপর দুটি পেনাল্টি মিস করা কিন্তু মেসির জন্য এবারই প্রথম নয়। দুই দশকের লম্বা ক্যারিয়ারে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো টানা দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন আর্জেন্টাইন তারকা।
তবে এবারের ঘটনা বেশি চোখে লেগেছে সময়ের কারণে। মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে দুটি পেনাল্টি মিস করেছেন এবার। পরপর দুটি পেনাল্টি মিসের আগের ঘটনাগুলোর কোনোটিই এত দ্রুত সময়ে হয়নি।
মেসি তাঁর ক্যারিয়ারের প্রথম বড় পেনাল্টি–খরায় পড়েছিলেন ২০১৪ সালে। সে বছর টানা তিনটি পেনাল্টি মিস করেন। ওই বছরের ৫ এপ্রিল লা লিগায় বেটিসের বিপক্ষে বার্সেলোনার জয়ের ম্যাচে আন্তোনিও আদান তাঁর শট রুখে দেন।
কয়েক মাস পর ২১ সেপ্টেম্বর লেভান্তের বিপক্ষে বড় জয়ের ম্যাচে আবারও পেনাল্টি মিস করেন। এরপর ১১ অক্টোবর আর্জেন্টিনার ম্যাচে ব্রাজিলের গোলরক্ষক জেফারসন তাঁর শট ঠেকিয়ে দিলে টানা তিন পেনাল্টি মিস হয় মেসির।
এর মধ্যেও অবশ্য ‘পেনাল্টি’ থেকে গোল করেছিলেন মেসি। তবে সেটি ছিল টাইব্রেকারে। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপ সেমিফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ঠিকই বল জালে জড়ান তিনি। পরে আর্জেন্টিনা ফাইনালে গেলেও হেরে যায় জার্মানির কাছে।
২০২১ সালে এসে আবার পেনাল্টি–খরায় পড়েন মেসি। ওই বছরের ১০ মার্চ চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনার হয়ে পিএসজির বিপক্ষে ম্যাচে কেইলর নাভাস তাঁর পেনাল্টি ঠেকিয়ে দেন। এর ৫৩ দিন পর লা লিগায় ভ্যালেন্সিয়ার জ্যাসপার সিলেসেন আরেকটি পেনাল্টি আটকে দেন, যদিও সেবার ফিরতি শটে মেসি গোল করতে সক্ষম হন।
তৃতীয় ঘটনাটি তো এবারের বিশ্বকাপেই। ১৫ দিনের ব্যবধানে এবার অস্ট্রিয়া ও মিসরের বিপক্ষে দুটি পেনাল্টি মিস করলেও দুর্দান্ত ফর্মেই আছেন মেসি। বিশ্বকাপে ৫ ম্যাচে ৮ গোল করে তিনি এখনো সর্বোচ্চ গোলদাতা, টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১ গোলও তাঁর।
বিশ্বকাপে পেনাল্টির রেকর্ড এমনিতে খুব একটা সুখকর নয় আর্জেন্টিনার জন্য। বিশ্বকাপে পাওয়া ৮ পেনাল্টির মধ্যে চারটিই মিস করেছেন। বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও মেসির। এক বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ দুটি পেনাল্টি মিসের রেকর্ডও তাঁর।
বিশ্বকাপে ব্যর্থতা থাকলেও সব মিলিয়ে কিন্তু মেসির পেনাল্টি রেকর্ডটা মন্দ নয়। মেসি ক্যারিয়ারে মোট ১৬১টি পেনাল্টি নিয়েছেন, এর মধ্যে ১২৫টিতে গোল করেছেন, ২৭টি সেভ হয়েছে আর ৯টি মেরেছেন গোলপোস্টের বাইরে। সব মিলিয়ে ৭৭.৬৪% পেনাল্টি থেকেই গোল করেছেন মেসি।
বার্সেলোনায় থাকার সময় ১০৭টি পেনাল্টি থেকে ৮২টি গোল করেছেন মেসি। পিএসজিতে ৪টি পেনাল্টির মধ্যে ৩টিতে গোল করেন, ইন্টার মায়ামিতে ৯ পেনাল্টির মধ্যে ৮টিতেই গোল করেন। আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের হয়ে নির্ধারিত সময়ে ৩২টি পেনাল্টির মধ্যে ২৫টি গোল এসেছে তাঁর পা থেকে। এই বিশ্বকাপে নিশ্চয়ই আর পেনাল্টি মিস করতে চাইবেন না মেসি!
ফোনে কথা হয়েছে, মেসির কাছ থেকে উপহারও পাবেন ক্লোসা






