২০২৬ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার খেলার ধরন অন্য সব দলের চেয়ে আলাদা। লিওনেল মেসি কত মিনিট খেলতে পারবেন, এ নিয়ে ভাবার বদলে পুরো দলই নিজেদের কৌশল সাজিয়েছে মেসিকে কেন্দ্র করে। লক্ষ্য একটাই-মেসিকে পুরো ম্যাচ মাঠে রাখা এবং শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া।

এই পরিকল্পনার ফলও মিলেছে দারুণভাবে। বিশ্বকাপের ৪৮টি দলের মধ্যে প্রতি ম্যাচে উচ্চগতিতে সবচেয়ে কম দৌড়ানো দলের তালিকায় আর্জেন্টিনা দ্বিতীয়। একই সঙ্গে স্প্রিন্টের সংখ্যাও অন্যতম কম। তবু টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত পাঁচটি ম্যাচই জিতেছে লিওনেল স্কালোনির দল। একই কীর্তি রয়েছে শুধু ফ্রান্সের।

পরিসংখ্যান বলছে, পাঁচটি ম্যাচের প্রতিটিতেই আর্জেন্টিনা প্রতিপক্ষের তুলনায় কম মোট দূরত্ব অতিক্রম করেছে। ম্যাচভেদে তারা প্রতিপক্ষের চেয়ে ৬১৫ মিটার থেকে ৫ হাজার ৫০০ মিটার পর্যন্ত কম দৌড়েছে। তবুও প্রতিটি ম্যাচেই জয় তুলে নিয়েছে।

বল দখলের ক্ষেত্রেও আধিপত্য খুব বেশি ছিল না। শুধু আলজেরিয়ার বিপক্ষেই আর্জেন্টিনার বল দখল ছিল প্রতিপক্ষের চেয়ে বেশি-৫২ শতাংশ, যেখানে আলজেরিয়ার ছিল ৪৮ শতাংশ। আর উচ্চগতিতে দৌড়ানোর ক্ষেত্রে কেবল কেপ ভার্দের বিপক্ষেই প্রতিপক্ষকে ছাড়িয়ে যেতে পেরেছিল আর্জেন্টিনা।

বিশ্লেষণে প্রতিটি দলের দৌড়ের দূরত্ব ও স্প্রিন্টের সংখ্যা ম্যাচের মোট খেলার মিনিট দিয়ে ভাগ করে হিসাব করা হয়েছে। অতিরিক্ত সময় এবং ইনজুরি টাইমের পার্থক্য বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি পানিবিরতির সময়ও বাদ দেওয়া হয়েছে।

কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা আট দলের মধ্যে আর্জেন্টিনার ঠিক বিপরীত চিত্র মরক্কোর। আফ্রিকার দলটি প্রতি মিনিটে উচ্চগতিতে আর্জেন্টিনার তুলনায় ৩৩ শতাংশ বেশি দূরত্ব অতিক্রম করেছে। নরওয়ে ৩২ শতাংশ, বেলজিয়াম ৩২ শতাংশ, ইংল্যান্ড ৩০ শতাংশ এবং স্পেন ২৪ শতাংশ বেশি দূরত্ব দৌড়েছে।

এই দলগুলো বিশ্বকাপের ৪৮ দলের মধ্যে উচ্চগতিতে দৌড় ও ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারের বেশি গতির স্প্রিন্টের তালিকায় ওপরের দিকেই রয়েছে। অন্যদিকে ব্রাজিল ছিল উচ্চগতিতে দৌড়ের তালিকায় ৩৩তম এবং স্প্রিন্টের হিসাবে ৩৯তম।

তবে আর্জেন্টিনা দেখিয়ে দিয়েছে, বেশি দৌড়ানোই সব সময় সাফল্যের চাবিকাঠি নয়। সঠিক কৌশল, বলের নিয়ন্ত্রণ এবং লিওনেল মেসির মতো একজন ম্যাচজয়ী ফুটবলারের সর্বোচ্চ ব্যবহারই দলটিকে বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অপরাজিত রেখেছে।

আরআর/এমএমআর