ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় মেটা প্রধান মার্ক জাকারবার্গকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছে ভারতের সংসদের একটি স্থায়ী কমিটি। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকেও চিঠি দিয়েছে কমিটি।

গত ২৩ জুলাই শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর একটি ভিডিও মেটার মালিকানাধীন ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম থেকে সাময়িকভাবে সরিয়ে দেওয়া হয়। পরে ভিডিওটি পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়। মেটা জানিয়েছে, এটি একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে হয়েছিল।

বুধবার (৫ আগস্ট) সংসদের যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এবং বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও মুছে ফেলা কোনো মধ্যস্থতাকারীর (ইন্টারমিডিয়ারি) কাজ নয়, এটি একজন প্রকাশকের (পাবলিশার) মতো আচরণ।

তিনি দাবি করেন, মার্ক জাকারবার্গকে তিন দিনের মধ্যে এ ঘটনার জন্য ক্ষমা চাইতে হবে।

তবে মেটার প্রধান বৈশ্বিক নীতি কর্মকর্তা জোয়েল ক্যাপলান জানান, তিনি বুধবার ভারতের তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণবের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং মেটার পক্ষ থেকে এ ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

এক বিবৃতিতে ক্যাপলান বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদীর পোস্ট সীমিত হয়ে যাওয়ার ঘটনায় মেটার পক্ষ থেকে আমি মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়েছি।

ভারতের সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলো সরকারি নীতি পর্যালোচনা করতে পারে এবং প্রয়োজন হলে সরকারি কর্মকর্তা বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করতে পারে। তবে এসব কমিটির সরাসরি শাস্তি দেওয়ার বা আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষমতা নেই।

নিশিকান্ত দুবে জানান, সংসদীয় কমিটি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে।

তিনি বলেন, যদি জাকারবার্গ ক্ষমা না চান, তাহলে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলো যে ‘সেইফ হারবার’ আইনি সুরক্ষা সুবিধা পেয়ে থাকে, তা প্রত্যাহার করা উচিত।

২৩ জুলাই শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে নরেন্দ্র মোদী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টাগ্রামে একটি ভার্টিক্যাল ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিওতে তিনি প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কঠোর আইন এবং আরও কঠিন শাস্তির আশ্বাস দেন।

সূত্র: এএফপি

এমএসএম