যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্রেটিক পার্টির সিনেট প্রাথমিক নির্বাচনে (প্রাইমারি) জয়ের পথে রয়েছেন বামঘেঁষা রাজনৈতিক আবদুল এল-সাইয়েদ। সিবিএস নিউজের পূর্বাভাস অনুযায়ী, তিনি চারবারের কংগ্রেস সদস্য এবং মধ্যপন্থী প্রার্থী হ্যালি স্টিভেন্সকে পরাজিত করেছেন।

আনুষ্ঠানিক ফল নিশ্চিত হলে আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্সের মুখোমুখি হবেন এল-সাইয়েদ।

মিসরীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান আবদুল এল-সাইয়েদ নির্বাচিত হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হবেন।

প্রচারাভিযানে তিনি সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা (মেডিকেয়ার ফর অল), অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা (আইসিই) বিলুপ্ত করা এবং ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের নিঃশর্ত সামরিক সহায়তা বন্ধ করার পক্ষে অবস্থান নেন। প্রাথমিক নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তিনি বলেন, রাজনীতি থেকে অর্থের প্রভাব কমিয়ে মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছে দেওয়া এবং সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আন্দোলন আরও এগিয়ে নেওয়া হবে।

৪১ বছর বয়সী এল-সাইয়েদ আরও বলেন, যাঁরা তাঁকে ভোট দিয়েছেন বা দেননি, এমনকি ২০২৪ সালের নির্বাচনে কমলা হ্যারিস বা ডোনাল্ড ট্রাম্প—যাকেই ভোট দিয়ে থাকুন না কেন, তিনি সবার প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করবেন।

এদিকে পরাজয় মেনে নিয়ে হ্যালি স্টিভেন্স এল-সাইয়েদকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, একজন চিকিৎসক, জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও রোডস স্কলার হিসেবে এল-সাইয়েদের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং সাধারণ নির্বাচনে তিনি তাঁর প্রতি সমর্থন জানাবেন।

এল-সাইয়েদকে সমর্থন দিয়েছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ও কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজের মতো প্রগতিশীল নেতারা। অন্যদিকে স্টিভেন্স সমর্থন পেয়েছিলেন মিশিগানের গভর্নর গ্রেচেন হুইটমার এবং বিদায়ী সিনেটর গ্যারি পিটার্সের।

দুই প্রার্থীর মধ্যে সবচেয়ে বড় মতপার্থক্য ছিল ইসরায়েল ইস্যুতে। এল-সাইয়েদ মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ও ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করলেও স্টিভেন্স নিঃশর্ত সহায়তা অব্যাহত রাখার পক্ষে ছিলেন।