ইউরোপজুড়ে চলমান তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার প্রভাব আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) অস্ট্রিয়ায় ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে হাঙ্গেরিতে বিদ্যুতের ওপর চাপ কমাতে সরকার জনগণ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানোর আহ্বান জানিয়েছে। মধ্য ও দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে দাবদাহ, পানির সংকট এবং দাবানল জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
অস্ট্রিয়ার জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা জিওস্ফিয়ার অস্ট্রিয়া জানিয়েছে, স্লোভাকিয়া সীমান্তবর্তী বাদ ডয়চ-আল্টেনবুর্গ শহরে তাপমাত্রা পৌঁছেছে ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এর আগের দিন রাজধানী ভিয়েনায় ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়েছিল।
প্রচণ্ড গরমে ইতালির বিভিন্ন বড় শহরে ‘রেড হিট অ্যালার্ট’ জারি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। ভ্যাটিকানও গরমের কারণে পোপ লিওর সাপ্তাহিক সাধারণ সমাবেশ সেন্ট পিটার্স স্কয়ারের পরিবর্তে ভবনের ভেতরে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
হাঙ্গেরিতে দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে দানিউব নদীর পানির স্তর মারাত্মকভাবে কমে গেছে। নদীর পানি দিয়ে শীতলীকরণ করা দেশটির একমাত্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। একই কারণে স্লোভেনিয়ার ক্রস্কো পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রও উৎপাদনক্ষমতা ৮০ শতাংশে নামিয়ে আনার ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে জার্মানির রাইন নদীর পানির স্তরও নতুন সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ফলে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। শস্য, আকরিক ও জ্বালানিসহ গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
আলবেনিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় মালাকাস্টার এলাকায় ভয়াবহ দাবানলে অন্তত ১৫টি পরিবারকে গবাদিপশু ও পোষা প্রাণীসহ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গিরোকাস্তার অঞ্চলেও আরেকটি দাবানল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন দমকলকর্মীরা। প্রতিবেশী গ্রিসেও দাবানলে হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি পুড়ে গেছে। যদিও আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে, তবু নতুন করে ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে শত শত দমকলকর্মী ও হেলিকপ্টার মোতায়েন রাখা হয়েছে।
চরম গরম ও খরা কৃষিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে। বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘস্থায়ী শুষ্ক ও উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে যুক্তরাজ্যে এ বছরের শস্য উৎপাদন ১৯৮৪ সালের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামতে পারে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইউরোপে এমন চরম আবহাওয়া ভবিষ্যতে আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে।








