নুরুল আজিম ওরফে আজম (৪০)। পেশায় দর্জি। তিন ছেলেমেয়ে, স্ত্রী ও মাকে নিয়ে কোনোরকমে চলছিল তার জীবন-জীবিকা। শুক্রবার সকালে ছোট মেয়ে আয়েশা সিদ্দিকাকে (১৩) নিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই বাড়ির পাশের বিলে মাছ ধরছিলেন। এ সময় এলাকার দিদারুল আলমসহ কয়েকজন আসে সেখানে। মেয়ের সামনেই প্রথমে আজমের পায়ে গুলি করে। পরে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে।

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার ৮নং মেখল ইউনিয়নের পশ্চিম মেখল খলিফাপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক রুপন নাথ জানান, পরে পুলিশ আলী আকবর নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে। আজম ওই এলাকার মৃত মো. ইসলামের ছেলে। পৌরসভার মাদ্রাসার সামনে জেলা পরিষদ মার্কেটে সেলিম টেইলার নামে তিনি একটি দর্জি দোকান করতেন। আলী আকবর তারই ভাই। তিনি একজন বাসচালক। আজমের স্ত্রী রাজু আকতার ও বড় মেয়ে জানান, তারা বেশ কয়েকবার আজমের কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। সে (আজম) চাঁদা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে গেল রমজানে এবং ঈদের পরে দুবার তাকে পিটিয়ে জখম করেছিল। ওই সময় আমরা নিরুপায় হয়ে থানায় মামলা করেছিলাম, মামলাটি এখনো চলমান।

আজমের স্ত্রী আরও বলেন, আমরা এখন কাকে নিয়ে এ দুনিয়াতে বাঁচব। আমাদের পরিবারের সদস্য তথা আমাদের ভরনপোষণ কীভাবে চলবে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের জন্য আজমের ভাই মো. আলী আকবর ও তার ছেলে মো. সাইফ দায়ী। তারা স্থানীয় সন্ত্রাসী দিদারকে দিয়ে এক লাখ টাকা কন্ট্রাকে আজমকে হত্যা করেছে। আকবরের সঙ্গে জমিজমা নিয়েও আজমের বিরোধ ছিল বলে জানান তিনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার সকালে আজম বাড়ির পাশের বিলে মাছ ধরতে গেলে দুই ব্যক্তির সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ওই দুই ব্যক্তি গুলি করে ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে আজমকে কুপিয়ে হত্যা করে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দিদার পলাতক রয়েছে।

আজমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে জানিয়ে হাটহাজারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান বলেন, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্ত্রী রাজু আকতার বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেছেন। উক্ত মামলায় আসামি হলো-হাটহাজারী পৌরসভার পূর্ব দেওয়ান নগর এলাকার হামিদ আলীর বাড়ির মৃত আবদুল মোনাফের পুত্র মো. দিদারুল আলম (৪৭), মেখল ইউনিয়নের পশ্চিম মেখল সিকদার বাড়ির মৃত লাল মিয়া তালুকদারের ছেলে মোহাম্মদ মোরশেদ প্রকাশ আকিল (৩০), পশ্চিম মেখল খলিফাপাড়া আলীম উল্লাহ কাজীর বাড়ির মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. আলী আকবর (৫৫) ও তার ছেলে মো. সাইফ (২০)। এছাড়াও অজ্ঞাতনামা ২-৩ জন।

এ ব্যাপারে হাটহাজারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) কাজী তারেক আজিজ জানান, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতের পায়ে গুলি ও শরীরের বিভিন্ন অংশে কোপানোর চিহ্ন পাওয়া গেছে। তিনি আর জানান, ঘটনার পর থেকে মামলার প্রধান আসামি দিদারুল আলম ও জড়িতরা পলাতক ছিল। এর মধ্যে থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী এজাহারনামীয় ৩নং আসামি আলী আকবরকে মেখল এলাকা থেকে থানা পুলিশ গ্রেফতার করেছে। মামলার অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।