গাজীপুরে শপথ করিয়ে একাধিক নারী ধর্ষণকারী কবিরাজ বিপুলকে গ্রেফতার করেছে কাশিমপুর থানা পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে গাজীপুর মহানগরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাশিমপুর চক্রবর্তী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার বিপুল গাইবান্ধার বাসিন্দা হলেও গাজীপুরের কাশিমপুর চক্রবর্তী এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছিল। প্রথমে এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেন। পরে কাশিমপুর থানা পুলিশ এসে ধর্ষণের শিকার একাধিক নারীর জবানবন্দি নিয়ে বিপুলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টায় তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
কাশিমপুরের চক্রবর্তী এলাকার ভুক্তভোগী এক নারী বলেন, ‘ভণ্ড কবিরাজ আমার ফোন নম্বর সংগ্রহ করে আমাকে কল দেয়। আমার বাস্তব জীবনে নানা সমস্যার কথা জানিয়ে চিকিৎসার কথা বলে এক ফ্ল্যাটে নিয়ে যায়। সেখানে আমার গলায়, কোমরে এবং বিভিন্ন জায়গায় তাবিজ বেঁধে আমাকে ধর্ষণ করে। আমি বাধা দিতে গেলে সে জিনের বাদশা পরিচয় দিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে হুমকি-ধমকি দেয়।’ ভুক্তভোগী আরও বলেন-‘আমি যেন এই ঘটনা কাউকে না বলি, সেজন্য শপথ করিয়ে আমাকে ধর্ষণ করে। এরপর আমাকে একটা ফ্লাটে ৩ দিন রেখে সব জিনিসপত্র একটা রুমে নিয়ে যায়। এরপর আমাকে কি কি করেছে আমি সব বলতে পারি না।’
ভুক্তভোগী অপর এক নারী বলেন, ‘আমার শাশুড়ি নাকি আমাকে কয়েক বছর ধরে কবিরাজি করে রাখছে! আমার নাকি বড় ক্ষতি হয়ে যাবে, এই কথা বলে আমাকে ডেকে নিয়ে যায়। তখন আমি এই জিনের বাদশা পরিচয়দানকারী কবিরাজকে বলছিলাম কি করলে এটা সমাধান হবে?’ তখন সে আমাকে ডেকে নিয়ে চিকিৎসার কথা বলে ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী বলেন, ‘ধর্ষণ করার আগে আমাকে সে বলে, আমি যেন কাউকে বলে না দিই, এজন্য সে আমাকে শপথ করায় এবং ধর্ষণের ভিডিও করে রাখে।’
কাশিমপুর থানার ওসি মোল্লা খালিদ হোসেন জানান, বিষয়টি জানতে পেরে রাতে ঘটনাস্থলে যাই। ভুক্তভোগী নারীদের জবানবন্দি নিই। এলাকাবাসীর কাছে তথ্য ও জিনের বাদশা পরিচয়দানকারী কবিরাজের মোবাইল ফোন চেক করে দেখি একাধিক নারীর সঙ্গে এরকম ধর্ষণের ভিডিও। তিনি আরও জানান, নারীদের শপথ করিয়ে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করত বিপুল। শুক্রবার ধর্ষণ ও পর্নোগ্রাফি মামলায় গ্রেফতার বিপুলকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।





