এটি কোনো প্রধান সড়ক নয়। শেওড়াপাড়ার মূল সড়কে ওঠার ভেতরের গলি। পূর্ব শেওড়াপাড়ার ইব্রাহিমপুর পাকার মাথা থেকে শুরু হওয়া এই রাস্তায় কোথাও কোমর পানি, কোথাও হাঁটুপানি। এই সড়কের আশপাশের অনেক বাড়িতেই পানি উঠতে শুরু করেছে।
কোনো কোনো দোকানেও উঠেছে পানি। রাস্তায় রিকশা ও ভ্যান চললেও ২০ টাকার ভাড়া হয়েছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বাচ্চাদের কেউ কেউ বলছিলেন, এটি এখন কক্সবাজার। কেউবা বলছেন, নদী হয়ে গেছে এই রাস্তা। রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকা কোনো কোনো অভিভাবক বলছিলেন, আজ স্কুল কলেজ সব বন্ধ ঘোষণা করা দরকার।

রোববার (১২ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর পূর্ব শেওড়াপাড়ায় ইব্রাহিমপুর পাকার মাথা থেকে মূল সড়কের কবরস্থানের গলি পর্যন্ত আসতেই পথচারী ও রাস্তায় নামা মানুষের কণ্ঠে এসব কথা শোনা গেছে। শেওড়াপাড়ায় মেট্রোর নিচেও হাটুপানি জমতে দেখা গেছে। আর মূল সড়কে বাসের দেখা নেই। আর রাস্তায় মোটরসাইকেল নেই বললেই চলে।
আরও পড়ুন
টানা বৃষ্টিতে মহাখালী-বিমানবন্দর সড়কে তীব্র যানজট
শেওড়াপাড়ায় মেট্রো স্টেশনের নিচে কথা হলে আগারগাঁওয়ের বাসিন্দা বসুদেব জাগো নিউজকে বলেন, সকাল ১০টার দিকে অটো নিয়ে মিরপুর ১০ সিটি করপোরেশন অফিসে গিয়েছিলাম। কাজীপাড়া পর্যন্ত যাওয়ার পর অটোর সার্কিট হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে। পরে কোমরপানিতে ভিজে ভিজে হেঁটে সিটি করপোরেশন অফিসে গিয়েছি। কাজ শেষে ফিরে আসার পথেও একই অবস্থা।

মিরপুর-১০ থেকে কাজীপাড়া পর্যন্ত কোমরপানি, আর কাজীপাড়া থেকে শেওড়াপাড়া পর্যন্ত হাটুপানি। এই ভোগান্তির শেষ নেই। রিকশাভাড়া বেশি। রিকশা নেই। আশপাশের বাড়িগুলোর গ্যারেজে পানি ঢুকে গেছে। আন্ডারগ্রাউন্ডে রাখা গাড়ি নষ্ট হচ্ছে অনেক বাড়িতে।
টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর থেকে ঢাকায় কাজে এসেছেন শফিক। জাগো নিউজকে বলেন, মিরপুর ১০ থেকে শেওড়াপাড়ায় কোমরপানি অতিক্রম করে এসেছি। কোনো বাস নেই। পানি বেশি হওয়ায় বাস এদিকে আসে না। মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছেন।
শেওড়াপাড়ায় এক ভ্যান চালকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, মানুষের ভোগান্তি অনেক। অনেক কষ্ট করে ভ্যান চালাতে হচ্ছে। জনপ্রতি ভাড়া নিচ্ছেন ৫০ টাকা। যেখানে স্বাভাবিক সময়ে রিকশাভড়া ২০ টাকা।

শেওড়াপাড়ার ইব্রাহিমপুর পাকার মাথা থেকে শেওড়াপাড়া মেট্রোর নিচে আসার পথে বাচ্চাদের কেউ বলছে, কক্সবাজার, কেউ বলছে নদী, কেউ বলছে, অফিস আদালত স্কুল কলেজ সব বন্ধ করা দরকার। রিকশা ও ভ্যান ভাড়াও অনেক বেশি। ২০ টাকার ভাড়া ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
কথা হলে শাহ আলম নামের এক ভ্যানচালক বলেন, বৃষ্টির কারণে ভ্যান নিয়ে রাস্তায় নামতে পারছি না। কাজ নেই। সব শোরুম বন্ধ। আজ কেউ মাল নিতে পারবে না বাসায়। ভ্যান দিয়ে কোনো মালামাল পরিবহন করা যাচ্ছে না। বাসায় পানি উঠেছে। এখন দই, চিড়া, দুধই ভরসা।
ইএইচটি/এমআরএম








