কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীর (৫৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সরাসরি জড়িত এক ভাড়াটে খুনিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা চাপাতিবৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিহতের মরদেহ দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান। এদিকে এ ঘটনায় গভীর শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সরাসরি জড়িত মো. হেলাল (২৫) বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চালিতাবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাকে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি দুজনকে করিমগঞ্জের বালিখলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা হলেন লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার মাহিন উদ্দিন (৩২) ও শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে হাসপাতালে জাহিদুল আলমের মরদেহ দেখতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান। তিনি বলেন, ‘জাহিদুল ষড়যন্ত্রের শিকার। দীর্ঘ ১৫ বছর তিনি এলাকায় ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। হাওরের মতো শান্ত এলাকায় ঢাকা থেকে একদল লোক এসে কীভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাল, তা নিরপেক্ষ তদন্তে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন।’ তিনি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে থাকা পরিকল্পনাকারীদের দ্রুত খুঁজে বের করার দাবি জানান।এদিকে এক শোকবার্তায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, স্বৈরাচারের পতন হলেও তাদের অনুসারীদের অস্ত্রের ঝনঝনানি ও রক্তপাত এখনো থামেনি। জাহিদুল আলমকে কুপিয়ে হত্যা করা সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। তিনি অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।বুধবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন সদরের নিজ বাসার সামনে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। জাহাঙ্গীরকে বাঁচাতে গিয়ে হাদিস মিয়া নামে এক বিএনপি কর্মীও আহত হয়েছেন। আগামীকাল শুক্রবার বাদ জুমা মিঠামইন হেলিপ্যাডে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে জাহিদুলের দাফন সম্পন্ন হবে।