বরিশালের মুলাদীতে হারুন হাওলাদার (৫৯) নামের এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে চরমালিয়া গ্রামে বাড়ির রান্নাঘরসংলগ্ন স্থানে মাটির নিচ থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়। স্বামীকে হত্যার পর লাশ মাটিতে পুতে রেখে স্ত্রী অপহরণের নাটক সাজিয়েছিলেন বলে জানায় পুলিশ। এ ঘটনায় হারুনের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়ায় হারুনকে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।

হারুন গ্রামের মৃত অছিমদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। শুক্রবার রাতে তিনি নিখোঁজ হয়েছিলেন। এর পর তার স্ত্রী দাবি করে আসছিলেন, অজ্ঞাতনামা লোকরা হারুনকে হাত ও চোখ বেঁধে বাড়ি থেকে তুলে ট্রলারে করে নিয়ে গেছে। ওই ঘটনা দেখিয়ে সেলিনা তার ছেলে জাফর হাওলাদারকে দিয়ে শনিবার রাতে মুলাদী থানায় অপহরণ মামলা করিয়েছেন। এই মামলায় সেলিনা প্রধান সাক্ষীও ছিলেন।

পুলিশ জানায়, শনিবার ভোরে সফিপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য হেলাল ব্যাপারী মোবাইল ফোনে হারুনের নিখোঁজের বিষয়টি অবহিত করেন। পরে সকালে মুলাদী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) তারেক আমান বান্নাসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। ওইদিন রাতে হারুনের ছেলে জাফর বাদী হয়ে তার মায়ের তথ্যমতে থানায় অপহরণ মামলা করেন।

ইউপি সদস্য হেলাল বলেন, শনিবার ভোরে সেলিনা তার স্বামী হারুনকে অপহরণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন। পরে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়। কিন্তু সেলিনার কথাবার্তা ও আচরণে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। এছাড়া শুক্রবার রাতে তিনি ঘরের মেঝে কাদামাটি দিয়ে প্রলেপ দিয়েছিলেন। এলাকার এক কৃষক নিখোঁজ হওয়ায় সোমবার সকালে প্রতিবেশীরা আশপাশে খোঁজ শুরু করেন। একপর্যায়ে হারুনের রান্নাঘরের কাছে নতুন মাটি দেখে পর্যবেক্ষণ করে আঙুল দেখে পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে। মুলাদী থানার ওসি খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, অপহরণ মামলার পর থেকে হারুন হাওলাদারের স্ত্রী সেলিনা বেগমকে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। সোমবার দুপুরে লাশ উদ্ধারের আগেই সেলিনাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। প্রাথমিকভাবে তিনি পরকীয়ার কথা স্বীকার করেছেন। লাশে হাতুড়িপেটা ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।