দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ নতুন আঙ্গিকে সাজানোর পরিকল্পনা করছে সরকার। এই নতুন ব্যবস্থায় ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। একই সঙ্গে চতুর্থ শ্রেণি থেকে সংস্কৃতি ও খেলাধুলা এবং ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে তৃতীয় একটি ভাষা শেখার সুযোগ তৈরি করা হবে। সরকারের লক্ষ্য একটি মূল্যবোধভিত্তিক ও আনন্দময় শিক্ষা ব্যবস্থা (লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস) গড়ে তোলা।বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ইউনেস্কো আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। ‘গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই) সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্র্যান্ট অ্যান্ড মাল্টিপ্লায়ার গ্র্যান্ট ফর বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে তিনি সরকারের ভবিষ্যৎ শিক্ষানীতি ও সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরেন।মাহদী আমিন জানান, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে সকল শিক্ষার্থীর জন্য কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। এ ছাড়া এই স্তর থেকেই একটি তৃতীয় ভাষা চালুর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, চতুর্থ শ্রেণি থেকে সংস্কৃতি এবং খেলাধুলা এই দুটি বিষয়কে পাঠ্যক্রমে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, সরকার এমন একটি ব্যবস্থা চায় যেখানে শিক্ষার্থীরা কোনো চাপের মুখে শিখবে না, বরং একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করবে।তিনি একে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা আনন্দের মাধ্যমে শিক্ষা হিসেবে অভিহিত করেন। মাহদী আমিনের মতে, ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্কের উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়াই এই সংস্কারের মূল লক্ষ্য।শহর ও গ্রামের শিক্ষার বৈষম্য কমিয়ে আনতে প্রযুক্তিগত হস্তক্ষেপের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। উপদেষ্টা বলেন, আমরা ‘ওয়ান টিচার ওয়ান ট্যাব’ প্রোগ্রাম এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের মতো প্রকল্পগুলোকে অগ্রাধিকার দিচ্ছি। এ ছাড়া দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাম্য বজায় রাখতে একই ধরনের স্কুল ইউনিফর্ম, জুতো, স্কুল ব্যাগ এবং জাতীয় পর্যায়ে ‘মিড ডে মিল’ প্রকল্প বাস্তবায়নের কথা জানান তিনি।শিক্ষা ব্যবস্থার মূল স্তম্ভ হিসেবে শিক্ষকদের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও তাদের পেশাগত মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। শিক্ষকদের আরও পরিশীলিত ও বিশ্বমানের প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে।’অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দায়িত্ব নেওয়ার পাঁচ মাসেরও কম সময়ের মধ্যে নতুন সরকারের জন্য ৪৮ মিলিয়ন ডলারের অনুদান নিশ্চিত হয়েছে। এই অর্থ শিক্ষা খাতের সংস্কার ও শিক্ষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে ব্যবহার করা হবে বলে জানান মাহদী আমিন।তিনি আশা প্রকাশ করেন, উন্নয়ন সহযোগীদের এই সহায়তা সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কাজের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক, সুনাগরিক এবং দক্ষ বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এই লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার এখন সময়ের দাবি।’অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ ইউনেস্কোর প্রতিনিধিরা।