মো. সাজিদুল ইসলাম ৪৪তম বিসিএসে সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে বর্তমানে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় কর্মরত। পরে ৪৫তম বিসিএসে কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ ক্যাডারে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন। তাঁর ভাইভা বোর্ডে করা প্রশ্ন ও উত্তর থেকে বিসিএস ভাইভা পরীক্ষার্থীদের জন্য তুলে ধরা হলো একটি নমুনা ভাইভা।

প্রশ্ন: আপনি এখানে দুটি মানচিত্র দেখতে পাচ্ছেন; একটি বিশ্ব মানচিত্র, অন্যটি বাংলাদেশের। কখনো দেশের বাইরে গিয়েছেন?

উত্তর: জি স্যার। একবার ভারতে গিয়েছি।

প্রশ্ন: ভারতের কোথায় গিয়েছিলেন? মানচিত্রে দেখান।

উত্তর: মহারাষ্ট্রে।

প্রশ্ন: আপনি তো একজন চিকিৎসক। এ পেশায় ভালো আয়ের সুযোগ রয়েছে। তাহলে কাস্টমসে আসতে চান কেন?

উত্তর: স্যার, একটি দেশের অর্থনীতির মূল ভিত্তি হলো রাজস্ব। সেই রাজস্ব ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে চাই।

প্রশ্ন: চিকিৎসক হিসেবে তো আরও বেশি অবদান রাখার সুযোগ রয়েছে। তাহলে কাস্টমস কেন?

উত্তর: চিকিৎসক হিসেবে অবশ্যই মানুষের সেবা করা যায়। তবে আর্থিক ও রাজস্ব খাতের প্রতি আমার বিশেষ আগ্রহ রয়েছে। জাতীয় অর্থনীতির ভিত্তি শক্তিশালী করার কাজে যুক্ত হতে চাই।

প্রশ্ন: আপনার শখ কী?

উত্তর: ভ্রমণ।

এরপর চেয়ারম্যান তাঁকে সর্বশেষ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা দুই মিনিটে ইংরেজিতে বলতে বলেন। শ্রীমঙ্গলে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করার একপর্যায়ে তিনি পরবর্তী প্রশ্নে যান।

প্রশ্ন: জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) কোন মন্ত্রণালয়ের অধীনে?

উত্তর: অর্থ মন্ত্রণালয়।

প্রশ্ন: কোন বিভাগের অধীনে?

উত্তর: স্যার, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ।

প্রশ্ন: এনবিআরকে দুটি ভাগে বিভক্ত করা হচ্ছে। বিষয়টি আপনার কাছে কেমন মনে হয়?

উত্তর: আমার কাছে এটি ইতিবাচক উদ্যোগ বলে মনে হয়।

প্রশ্ন: কেন?

উত্তর: একটি অংশ রাজস্ব নীতি প্রণয়ন করবে, অন্য অংশ রাজস্ব বাস্তবায়ন ও আহরণে কাজ করবে। এতে দায়িত্বের বিভাজন স্পষ্ট হবে এবং কার্যকারিতা বাড়বে।

প্রশ্ন: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তসীমান্ত নদী কতটি?

উত্তর: মোট ৫৭টি। এর মধ্যে ভারতের সঙ্গে ৫৪টি এবং মিয়ানমারের সঙ্গে তিনটি।

প্রশ্ন: Water scarcity, water stress ও water security বলতে কী বোঝায়?

উত্তর: আমি ধারণাগত ব্যাখ্যা দিতে শুরু করলে স্যার পরিমিতি বা

সংখ্যার ভিত্তিতে ব্যাখ্যা চাইলে দুঃখ প্রকাশ করি।

প্রশ্ন: River erosion হ্যাজার্ড নাকি ডিজাস্টার?

উত্তর: ডিজাস্টার।

প্রশ্ন: কেন?

উত্তর: কোনো অবস্থা স্বাভাবিক থেকে অস্বাভাবিক হয়ে জীবন মানের ক্ষতি এবং বিপর্যয় ঘটালে ডিজাস্টার বলে।

প্রশ্ন: হিট আইল্যান্ড কী?

উত্তর: শহরাঞ্চলের তাপমাত্রা আশপাশের গ্রামীণ এলাকার তুলনায় বেশি হওয়ার ঘটনাকে হিট আইল্যান্ড বলা হয়।

প্রশ্ন: এটি কেন হয়?

উত্তর: স্যার, শহরাঞ্চলে গাছপালার অভাব, কার্বন ডাই-অক্সাইড বেশি এমিশন হয়, পরিবেশ দূষণ বেশি হয়।

প্রশ্ন: কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামিয়ে আনা সম্ভব?

উত্তর: সরাসরি কার্বন নিঃসরণ পুরোপুরি শূন্য করা কঠিন। তবে নেট জিরো কার্বন এমিশন অর্জন সম্ভব।

প্রশ্ন: কীভাবে?

উত্তর: যখন মোট কার্বন নিঃসরণ এবং পরিবেশে কার্বন শোষণের পরিমাণ সমান হয়, তখন নেট কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নেমে আসে।

প্রশ্ন: বর্তমানে ঢাকার পরিবেশদূষণের প্রধান ধরনগুলো কী?

উত্তর: বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ এবং জলাবদ্ধতাজনিত পরিবেশগত সমস্যা।

প্রশ্ন: PM 2.5 কী?

উত্তর: এটি বাতাসে ভাসমান ২.৫ মাইক্রোমিটারের কম ব্যাসের অতিক্ষুদ্র কণিকা, যা শ্বাসতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।

প্রশ্ন: ট্রেড নেগোসিয়েশন কী?

উত্তর: দুই বা ততোধিক দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থ বিবেচনায় বাণিজ্যিক সুবিধা ও শর্ত নির্ধারণের আলোচনাকে ট্রেড নেগোসিয়েশন বলা হয়।

প্রশ্ন: এটি শুধু দর-কষাকষির ওপর নির্ভর করে?

উত্তর: না স্যার। অর্থনৈতিক স্বার্থ, রাজনৈতিক সম্পর্ক, ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, বাজারের আকার, জনসংখ্যা এবং কৌশলগত প্রয়োজনসহ বিভিন্ন বিষয়ের ওপর এটি নির্ভর করে।

প্রশ্ন: ওজোন স্তর কী?

উত্তর: স্ট্র্যাটোস্ফিয়ারে অবস্থিত ওজোন গ্যাসের স্তর, যা সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি থেকে পৃথিবীকে সুরক্ষা দেয়।

প্রশ্ন: গ্রিনহাউস গ্যাসের সঙ্গে এর সম্পর্ক কী?

উত্তর: আমি বলি, সিএফসি থেকে উৎপন্ন ক্লোরিন ফ্রি র‌্যাডিক্যাল ওজোন স্তরের ক্ষয় ঘটাতে পারে।

প্রশ্ন: গ্রিনহাউস কী?

উত্তর: শীতপ্রধান দেশে কাচ বা স্বচ্ছ আবরণ দিয়ে তৈরি এমন একটি কাঠামো, যেখানে প্রয়োজনীয় তাপ ধরে রেখে উদ্ভিদ চাষ করা হয়।

প্রশ্ন: তাহলে আমাদের দেশে গ্রিনহাউসের প্রয়োজন নেই?

উত্তর: সাধারণভাবে এর প্রয়োজন কম।

প্রশ্ন: তাহলে কি বাংলাদেশে গ্রিনহাউস গ্যাস নেই?

উত্তর: আছে।

প্রশ্ন: কী কী?

উত্তর: কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লুরোকার্বন (সিএফসি), ওজোন এবং জলীয় বাষ্পসহ বিভিন্ন গ্রিনহাউস গ্যাস রয়েছে।

প্রশ্ন: ওজোন স্তরে সিএফসি কী করে?

উত্তর: সিএফসি ভেঙে ক্লোরিন মুক্ত করে, যা ওজোন অণুকে ধ্বংস করে ওজোন স্তরের ক্ষয় ঘটায়।

সবশেষে বোর্ড থেকে পৃথিবীর তাপমাত্রার দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনসংক্রান্ত একটি তাত্ত্বিক প্রশ্ন করা হয়। প্রার্থী নিজের ধারণা থেকে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেন। এরপর চেয়ারম্যান সময় শেষ ঘোষণা করেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সালাম জানিয়ে তিনি বোর্ড থেকে বেরিয়ে আসেন।

অনুলিখন: জেলি খাতুন