নওগাঁয় সমতা সমবায় সমিতির আত্মসাৎ করা টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন গ্রাহকেরা।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে নওগাঁ পৌরসভার খলিশাকুড়ি এলাকায় সমতা সমবায় সমিতির প্রধান কার্যালয় ও সমিতিটির চেয়ারম্যান শাহীনুর রহমানের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা এ কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে পাঁচ শতাধিক গ্রাহক অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচি চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। পরে নওগাঁ সদর থানা-পুলিশ সমিতির চেয়ারম্যান শাহীনুর রহমানকে গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে।
মানববন্ধনে গ্রাহকদের মধ্যে খলিশাকুড়ি এলাকার বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম রাজু, জাহাঙ্গীর আলম, ফরিদা খাতুন, বোয়ালিয়া এলাকার জিল্লুর রহমান, নজরুল ইসলাম, মাদ্রাসাপাড়া এলাকার নার্গিস আক্তার প্রমুখ বক্তব্য দেন।
বক্তারা বলেন, সমতা সমবায় সমিতিতে টাকা রেখে হাজার হাজার মানুষ প্রতারিত হয়ে নিঃস্ব হয়েছেন। সমতা সমবায় সমিতিতে দুই সহস্রাধিক গ্রাহকের প্রায় ১৮০ কোটি টাকা আমানত রয়েছে। ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে সমতা সমবায় সমিতি ও নেসডো সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। ওই সময় থেকে প্রতিষ্ঠান দুটি গ্রাহকদের জমানো টাকার লভ্যাংশ কিংবা আমানতের টাকা ফেরত দিচ্ছে না। লভ্যাংশ কিংবা আমানতের টাকা ফেরত চেয়ে গ্রাহকেরা সংস্থার কার্যালয়ে বারবার ধরনা দিয়েও টাকা পাচ্ছেন না। প্রতারক ও অর্থ আত্মসাৎকারী শাহীনুর রহমানকে গ্রাহকের জমা করা টাকা ফেরত দিতে হবে বলে জানান বক্তারা।
ভুক্তভোগীরা বলেন, ২০১৫ সালে নওগাঁ পৌরসভার খলিশাকুড়ি এলাকার বাসিন্দা শাহীনুর রহমান ও স্থানীয় আরও কয়েকজন মিলে সমতা সমবায় সমিতি স্থাপন করেন। নিজ বাড়ির একটি অংশে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন। কার্যালয়ে একজন ব্যবস্থাপকসহ ১০-১২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ছিলেন।
এ ছাড়া নওগাঁ সদর, মান্দা, বদলগাছী ও মহাদেবপুর উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় সমিতির ৩০টির বেশি কার্যালয় খুলে আমানতের টাকা সংগ্রহ ও ক্ষুদ্র ঋণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো।
অন্য প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ পাওয়ার আশায় আশপাশের এলাকার লোকজন ওই সমবায় সমিতিতে টাকা গচ্ছিত রাখেন। গ্রাহকদের আমানতের বিপরীতে নিয়মিত লভ্যাংশও দেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে লভ্যাংশ দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। লভ্যাংশসহ আমানতের টাকা ফেরত চেয়ে আমানতকারীরা সমিতির কর্মকর্তাদের চাপ দেওয়া শুরু করেন। সমিতির চেয়ারম্যান শাহীনুর রহমান কিছু দিন আত্মগোপনেও ছিলেন। এ সময় টাকা ফেরতের দাবিতে কিছু গ্রাহক তাঁর বিরুদ্ধে থানায় টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার মামলা করেন। এসব মামলায় তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। পরে তিনি কয়েকটি মামলায় জামিনে মুক্তি পান।
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, শাহীনুর রহমানের বিরুদ্ধে নওগাঁ সদর মডেল থানায় গ্রাহকের টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণাসহ ৮টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে চারটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় শাহীনুরকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।








