২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরেছে নরওয়ে। ফিরেই দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো নাম লিখিয়েছিল কোয়ার্টার ফাইনালে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই ম্যাচেও সমান তালেই লড়েছে আরলিং হালান্ডের দল।

তবে ১২০ মিনিটের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই শেষে হার মানতে হয়েছে নরওয়েকে। ২-১ গোলের জয়ে তাদের স্বপ্নযাত্রা থামিয়ে সেমিফাইনালে নাম লিখিয়েছে ইংল্যান্ড।

নির্ধারিত ৯০ মিনিট ১-১ সমতায় শেষ হয়েছিল। কিন্তু অতিরিক্ত সময়ে ভিন্ন এক চেহারায় হাজির হয় ইংল্যান্ড। দারুণ সব আক্রমণ থেকে গোলও তুলে নেয়।

ম্যাচের শুরুতে বলের দখলে স্পষ্ট আধিপত্য দেখায় ইংল্যান্ড। জুড বেলিংহ্যাম, মাইলস ও'রাইলি এবং হ্যারি কেইন একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও সেগুলো কাজে লাগাতে পারেনি থ্রি লায়ন্সরা।

অন্যদিকে, ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায় নরওয়ে। একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণে চাপ সৃষ্টি করে তারা। প্রথমে আর্লিং হালান্ডের দুটি দুর্দান্ত প্রচেষ্টা গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড রুখে দেন।

তবে শেষ পর্যন্ত ৩৪তম মিনিটে বাঁ দিক থেকে অসাধারণ এক শটে ইংল্যান্ডের জাল কাঁপান আন্দ্রেয়াস স্কিয়েলদেরুপ। তার দুর্দান্ত শটটি সরাসরি জালের ওপরের কোণে আশ্রয় নেয় এবং নরওয়েকে এগিয়ে দেয় ১-০ ব্যবধানে।

গোলের পরও আক্রমণ অব্যাহত রাখে নরওয়ে। আলেকজান্ডার সোরলথ ও মার্টিন ওডেগার্ড আরও কয়েকটি ভালো সুযোগ পেলেও ব্যবধান বাড়াতে ব্যর্থ হন।

নরওয়ের সেই ব্যর্থতার সুযোগ নেয় ইংল্যান্ড। প্রথমার্ধের শেষ দিকে অ্যান্থনি গর্ডনের নিখুঁত স্কয়ার পাস থেকে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে জুড বেলিংহ্যাম শক্তিশালী বাঁ-পায়ের শটে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর হ্যারি কেইন বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল হয়।

দ্বিতীয়ার্ধে ৫৫ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো নরওয়ে। আন্দ্রেয়াস স্কিয়েলদেরুপের নেওয়া কর্নার থেকে বল ছয় গজের বক্সে এসে পড়ে। সেখান থেকে প্যাট্রিক বার্গের জোরালো শট প্রথমে দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন ইংল্যান্ড গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। তবে ফিরতি বলে সবার আগে পৌঁছে যান লিও হেগেম এবং কাছ থেকে বল জালে ঠেলে দেন।

গোলের পরই তীব্র প্রতিবাদ জানায় ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা। কারণ আরলিং হালান্ড বক্সের মধ্যেই ইংল্যান্ডের এক খেলোয়াড়কে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছিলেন। রেফারি ভিএআর চেক করার সিদ্ধান্ত নেন। ভিএআর দেখে পরিষ্কার ফাউল পাওয়ায় গোলটি বাতিল করেন রেফারি।

এরপর দুই দলই চেষ্টা করে আর গোল আদায় করতে পারেনি। ১-১ সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিট।

অতিরিক্ত সময়ের তৃতীয় মিনিটেই বেলিংহ্যামের দ্বিতীয় গোলে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে নেওয়া মরগান রজার্সের বাঁকানো শক্তিশালী শট নরওয়ের গোলরক্ষক অরইয়ান নিল্যান্ড ঠিকমতো তালুবন্দি করতে পারেননি। গোলরক্ষকের হাত ফসকে বল চলে যায় জুড বেলিংহ্যামের সামনে। আলতো ছোঁয়ায় সেটি জালে পাঠিয়ে দেন বেলিংহ্যাম (২-১)।

৯৯ মিনিটে আরও একবার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছিল ইংল্যান্ডের। পেনাল্টির আবেদন করেছিল তারা। কিন্তু ভিএআর দেখে স্পষ্ট ফাউলের আলামত না পাওয়ায় পেনাল্টির সে সিদ্ধান্ত বাতিল করে দেন রেফারি।

বিস্তারিত আসছে...

এমএমআর