পপ তারকা কাইলি মিনোগকে নিয়ে গত সপ্তাহে এক পডকাস্টে করা অনাকাঙ্ক্ষিত ও ‘অনুপযুক্ত’ মন্তব্যের জন্য ‘দ্ব্যর্থহীনভাবে’ ক্ষমা চাইলেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। কাইলি মিনোগকে জড়িয়ে করা তার ওই মন্তব্যটির পর দেশটির সংসদ সদস্যসহ সর্বস্তরে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।
কৌতুক অভিনেতা নিকি অসবোর্নের ‘বুশ ডিপ’ নামক পডকাস্টে অংশ নিয়ে গত সপ্তাহের শেষে ক্যানবেরায় প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে এই সাক্ষাৎকারটি দিয়েছিলেন আলবানিজ। ২০ মিনিটের ওই সাক্ষাৎকারে অসবোর্ন প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন- তিনি পপ তারকা কাইলি মিনোগ, অভিনেত্রী নিকোল কিডম্যান ও এন্টারটেইনার রোন্ডা বার্চমোরের মধ্যে কার সঙ্গে ‘শারীরিক সম্পর্ক, বিয়ে কিংবা ডেট’ করতে চাইবেন?
গত নভেম্বরে জোধি হেইডনকে বিয়ে করা আলবানিজ প্রথমে প্রশ্নটি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলেন, আমি মাত্র বিয়ে করেছি, মোটে ছয় মাস হলো। কিন্তু অসবোর্ন তাকে আরও চাপ দিলে তিনি বলেন, ওহ, কাইলি, স্পষ্টভাবেই। তখন অসবোর্ন আবার জিজ্ঞেস করেন, আপনি কাইলির সঙ্গে বিয়ে করবেন, শারীরিক সম্পর্ক করবেন নাকি ডেটও করবেন? জবাবে আলবানিজ হাসিমুখে বলেন, উপরের সবগুলোই। সে অসাধারণ।
চলতি বছরের শুরুতে পডকাস্ট শুরু করা নিকি অসবোর্ন মূলত ইউটিউবে অপরিশোধিত ও স্থূল কমেডি স্কেচ পোস্ট করার জন্য পরিচিত। তার পডকাস্ট সাইটে নিজেকে একজন ‘বন্যভাবে অনুপযুক্ত সাংবাদিক’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যিনি এমন সব প্রশ্ন করেন যা অন্য কেউ করার সাহস পায় না।
এদিকে আলবানিজের এই মন্তব্যকে‘নারীদের প্রতি অসম্মানজনক’ ও ‘প্রধানমন্ত্রীর পদের মর্যাদাহানিকর’ বলে আখ্যা দিতে শুরু করেন অনেকে। এর পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে এক লাইনের এক বিবৃতিতে অজি প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আমার মন্তব্যের জন্য দ্ব্যর্থহীনভাবে ক্ষমা চাইছি।
প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ‘কমিউনিটি স্ট্রং’-এর এমপি জালি স্টেগেল। তিনি বলেন, এই মন্তব্যটি সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত ও প্রধানমন্ত্রীর উচিত এমন সেক্সিস্ট (লিঙ্গবৈষম্যমূলক) আচরণ রুখে দেওয়া ও উদাহরণের মাধ্যমে নেতৃত্ব দেওয়া। শ্যাডো কমিউনিকেশন মিনিস্টার সারাহ হেন্ডারসন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স -এ লিখেছেন, এই মন্তব্য নারীদের প্রতি অসম্মানজনক, অস্ট্রেলিয়ানদের জন্য লজ্জাজনক ও প্রধানমন্ত্রীর পদের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ণ করে।
বর্তমানে অ্যালবানিজ প্রশান্ত মহাসাগরীয় (প্যাসিফিক) অঞ্চলে সফরে থাকায় দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন রিচার্ড মার্লেস। তিনি সংবাদমাধ্যম এবিসি-র ‘রেডিও ন্যাশনাল ব্রেকফাস্ট’ প্রোগ্রামে বলেন, তাদের সরকার সমাজে নারীদের মর্যাদা বৃদ্ধিতে ‘সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’। তিনি আরও যোগ করেন, সময়ে সময়ে আমরা সাধারণের চেয়ে আলাদা সাক্ষাৎকার দিয়ে ফেলি, তবে মনে রাখতে হবে আলবানিজের নেতৃত্বাধীন এই সরকারই ইতিহাসে প্রথম, যার ক্যাবিনেটে নারী ও পুরুষের সংখ্যা সমান।
সাক্ষাৎকারে আলবানিজকে তার বিদেশ সফরে পাওয়া সবচেয়ে বাজে উপহারের বিষয়েও জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। তিনি জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানা তাকাইচির কাছ থেকে পাওয়া দুটি তরমুজ ছিল কিছুটা ‘অদ্ভুত’ কিন্তু শেষ পর্যন্ত ‘বেশ ভালো’ একটি উপহার। তখন অসবোর্ন অঙ্গভঙ্গি করে মন্তব্য করেন, তিনি (জাপানের প্রধানমন্ত্রী) কি পামেলা অ্যান্ডারসনের মতো এসেছিলেন? অসবোর্নের এই চটুল মন্তব্যের জবাবে অ্যালবানিজ কেবল হাসেন এবং নিজের বুকের সামনে হাত নেড়ে ইশারা (ওয়াগল) করেন।
সূত্র: বিবিসি
এসএএইচ








