নাটোরের উত্তরা গণভবনের সামনে শুক্রবার বিকালে পথসভা করার সময় বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার সভাস্থল থেকে পিস্তলসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে। আটককৃত যুবকের নাম শামস আল আমিন তামিম। তিনি নাটোরের প্রয়াত বিএনপি নেতা শামসুল আলমের ছেলে এবং বগুড়া টিএমএসএস মেডিকেল কলেজের ছাত্র।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুক্রবার বিকাল ৪টা ৩৫ মিনিটে উত্তরা গণভবনের সামনে বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রীর পথসভা চলছিল। জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুুলু, জেলা পরিষদের প্রশাসক রহিম নেওয়াজসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের প্রায় সব নেতা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় খয়েরি রঙের পোশাক পরা এক যুবককে একটি পিস্তলসহ আটক করা হয়। পরে জানা যায় আটককৃত যুবক নাটোরের প্রয়াত বিএনপি নেতা শামসুল আলমের ছেলে। তিনি তার পরিবারের সঙ্গেই নাটোর পৌরসভার কানাইখালী এলাকায় বসবাস করেন এবং বাবা শামসুল আলমের ব্যবসা দেখাশোনা করেন। তিনি তার বাবার লাইসেন্সকৃত পিস্তল পকেটে নিয়ে সমাবেশস্থলে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছিলেন।
নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার বিকালে বিমানমন্ত্রী উত্তরা গণভবন পরিদর্শন শেষে গণভবনের গেটসংলগ্ন একটি পথসভায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় ওই যুবক মন্ত্রীর কাছাকাছি অবস্থান করছিলেন। মন্ত্রী মঞ্চ থেকে নামার সময় ওই যুবকের সঙ্গে দুইবার ধাক্কা লাগে। এতে সন্দেহ হলে পুলিশ তাকে পাশে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। একপর্যায়ে তার কাছে একটি পিস্তল পাওয়া যায়। পরে পিস্তলসহ তাকে আটক করে নাটোর সদর থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। এ সময় আটক যুবক দাবি করেন, পিস্তলটি তার বাবার নামে লাইসেন্স করা। নিজের আত্মরক্ষার জন্য তিনি সেটি সঙ্গে এনেছিলেন। তিনি নিজেকে একজন শিক্ষার্থী বলেও দাবি করেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে ওসি জানান।
তবে অন্য একাধিক সূত্রে জানা গেছে, আটক যুবক মাদকাসক্ত এবং এটা তার বাবার লাইসেন্সকৃত পিস্তল নয়। দেখতে আসল পিস্তলের মতো মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে এটি খেলনার পিস্তল।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইফতে খায়ের আলম বলেন, খেলনা পিস্তল হলেও কেন ওই যুবক সমাবেশস্থলে গেল তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।







