কুড়িগ্রাম শহরের যানজট নিরসনে প্রশস্ত হচ্ছে শাপলা চত্বর। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলা শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসংলগ্ন শাপলা চত্বরের পূর্ব প্রান্তের বর্ধিত অংশের প্রায় ১৫ ফুট স্থান নিয়ে চত্বরটি প্রশস্তকরণ কাজ শুরু করেছে সড়ক বিভাগ ও পৌর প্রশাসন।
শাপলা চত্বর প্রশস্তকরণের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে একটি বাইপাস সড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এটি বাস্তবায়ন হলে শাপলা চত্বর জেলা শহরের একটি দৃষ্টিনন্দন পয়েন্টে পরিণত হবে বলে জানিয়েছে সড়ক বিভাগ।
সড়ক বিভাগ জানায়, শহরের শাপলা চত্বরে সব সময় যানজট লেগে জনভোগান্তি তৈরি হয়। এ ছাড়া ওই অংশে টার্নিং স্পেস কম হওয়ায় ভারী যানবাহন ও দূরপাল্লার বাস চলাচলে সমস্যা হয়। এই সমস্যা নিরসনে জেলা প্রশাসনের সমন্বয় সভায় সর্বসম্মতিক্রমে শাপলা চত্বরের বর্ধিত অংশ ভেঙে সড়ক প্রশস্ত করার সিদ্ধান্ত অনুমোদন হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সড়ক বিভাগ ও পৌর কর্তৃপক্ষ স্থানটি প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে জেলার রাজনীতিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের উপস্থিতিতে কাজটি শুরু হয়েছে।
এদিকে শাপলা চত্বর সম্প্রসারণকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ‘সম্মানহানি’ দাবি করে অপপ্রচারে নেমেছে একটি চক্র। এমন অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়ে শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠাকালীন সংগঠক ও সংস্কৃতিকর্মীরা বলছেন, শহীদ মিনারের বেদি কিংবা মূল অংশের সঙ্গে বর্ধিত ওই অংশের সম্পর্ক নেই। শহীদ মিনার ও শাপলা ভাস্কর্য অবিকৃত রেখে চত্বরটি প্রশস্ত করা হচ্ছে।
জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সদস্যসচিব বলেন, ‘শাপলা চত্বরে যানজটের কারণে শহরে যাতায়াতে দীর্ঘদিন ধরে জনবিড়ম্বনা চলছে। সচেতন নাগরিকদের দাবি ও পরামর্শে শাপলা চত্বরটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আমরা শহীদ মিনারের পশ্চিম দিক দিয়ে একটি বাইপাস সড়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। সেটি বাস্তবায়িত হলে শহরের এই মূল প্রবেশমুখে আর যানজট থাকবে না।’ তিনি আরও বলেন, ‘সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের সঙ্গে শহীদ মিনারের বেদিসহ মূল অংশের কোনো সম্পর্ক নেই। যারা এটিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে, তারা নষ্টবুদ্ধির মানুষ।’
সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শহরের যানজট নিরসনে শাপলা চত্বরটি প্রশস্তকরণ জরুরি ছিল। জেলা সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সড়ক বিভাগ স্থানটি প্রশস্ত করার কাজ শুরু করেছে। স্থানটি জেলা শহরের একটি আইকনিক পয়েন্ট হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি বাইপাস সড়কটি বাস্তবায়ন হলে ওই স্থানে যানজট থাকবে না।’







