বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনের জীবন্ত কিংবদন্তি শিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী বেশ কয়েক বছর ধরেই নতুন কোনো গানে কণ্ঠ দিচ্ছেন না। বর্তমানে তিনি মূলত একটি সঙ্গীতবিষয়ক অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনে প্রধান অতিথি বা বিশেষ অতিথি হিসেবে অংশ নেন। এর বাইরে অধিকাংশ সময়ই পরিবারের সঙ্গে বাসায় কাটান।সম্প্রতি একজন শিল্পী ও সুরকার-সঙ্গীত পরিচালক তাকে নতুন একটি গান গাওয়ার অনুরোধ জানালেও তিনি বিনয়ের সঙ্গে তা ফিরিয়ে দেন। এ বিষয়ে সৈয়দ আব্দুল হাদী বলেন, “সত্যি বলতে কী, এখনকার গানে এক গান থেকে আরেক গানের তেমন কোনো পার্থক্য খুঁজে পাই না। গানের কথার মাঝেও আগের মতো গভীরতা নেই। সে কারণেই নতুন গান গাওয়ার কোনো আগ্রহ নেই।”তবে ভালো কথা ও সুরের গান পেলে সিদ্ধান্ত বদলাতেও আপত্তি নেই বলে জানান এই বরেণ্য শিল্পী। তিনি বলেন, “আগামীতে যদি কারও গানের কথা খুব ভালো লাগে, আর সেই কথার সঙ্গে সুরও যদি মন ছুঁয়ে যায়, তাহলে হয়তো চেষ্টা করে দেখা যেতে পারে। জানি না, সেই দিন আর আমার জীবনে আসবে কি না। এমন কোনো গান লেখা হবে কি না, যা সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করবে। তবে না হলেও কোনো আফসোস থাকবে না। কারণ এক জীবনে অসংখ্য ভালো কথা ও সুরের গান গেয়েছি। সেই গানগুলোর মধ্য দিয়েই আমি আমার প্রিয় শ্রোতাদের হৃদয়ে বেঁচে থাকব।”কিছুদিন আগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে সৈয়দ আব্দুল হাদীকে নিয়ে বিশেষ সম্মাননা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে তাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা জানানো হয়। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা তার গাওয়া জনপ্রিয় গান পরিবেশন করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

গত ১ জুলাই ৮৫ বছরে পা রাখেন এই কিংবদন্তি শিল্পী। দীর্ঘ সঙ্গীতজীবনে তিনি উপহার দিয়েছেন অসংখ্য কালজয়ী গান। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে— আমি তোমারই প্রেমের ভিখারি, যেও না সাথী, আছেন আমার মোক্তার, আছেন আমার ব্যারিস্টার, চোখ বুঝিলেই দুনিয়া আঁধার, কে জানে কত দূরে সুখের ঠিকানা, চোখের নজর এমনি কইরা একদিন ক্ষইয়া যাবে, এমনও তো প্রেম হয়, তীরে তীরে নাহি ভিড়ে এবং সুন্দর সন্ধ্যায় এ গান দিলাম উপহার। এসব গান আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে সমানভাবে সমাদৃত।