নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুপারিশমালা এখনো চূড়ান্ত করতে পারেনি এ-সংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি বিবেচনা, ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের কৌশল এবং প্রযুক্তিগত জটিলতা- সব মিলিয়ে পরিকল্পনা ঠিক করতে হিমশিম খাচ্ছে কমিটি।
ফলে প্রকাশ হচ্ছে না গেজেট। আর গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় ২১ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগীর মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে। আগস্ট না অক্টোবর, কবে প্রজ্ঞাপন জারি হবে, সেই অনিশ্চয়তার মধ্যেই এখন নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দিকে তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্ট সবাই।
আরও পড়ুন
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে নতুন জট, সুপারিশ চূড়ান্ত হয়নি
ফের তিন ধাপে কার্যকরের পরিকল্পনা
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে কার্যকর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সে অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১ জুলাই জাতীয় বেতন কমিশনের সুপারিশ করা মূল বেতনের (বেসিক) ৫০ শতাংশ, ২০২৭ সালের ১ জুলাই বাকি ৫০ শতাংশ এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন ভাতা কার্যকর করার পরিকল্পনা ছিল।
তবে বাস্তবায়নের হিসাব করতে গিয়ে দেখা যায়, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের কারণে অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বর্তমান মূল বেতন এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে কমিশনের সুপারিশের মাত্র অর্ধেক কার্যকর করলে প্রকৃত বেতন বৃদ্ধি খুবই সামান্য হবে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে মোট বেতন কমে যাওয়ারও আশঙ্কা তৈরি হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরিজীবীদের আপত্তির পর বাস্তবায়ন পরিকল্পনা পরিবর্তন করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিন ধাপের পরিবর্তে দুই ধাপে বাস্তবায়ন করার চিন্তাভাবনা করা হয়। সে ক্ষেত্রে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন এবং ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরু থেকে নতুন ভাতা কার্যকর করার কথা ছিল। তবে এ পরিকল্পনাও চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এখন আবার তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রথম ধাপে শুধু মূল বেতন কার্যকর করা হবে। পরবর্তী দুই ধাপে অন্যান্য ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, এমন সমালোচনা শুনছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে চলছি, সেটা কেউ বলে না। অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা যে বেতন-ভাতা পান, তার প্রায় সম্পূর্ণ অংশই প্রতি মাসে খরচ হয়ে যায়। সঞ্চয় হয় খুবই কম।- শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা
অবশ্য ১৫ জুলাই সচিব কমিটির সর্বশেষ বৈঠকে এটিও চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে বৈঠকে পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বাস্তবায়নের ধাপ, সফটওয়্যার কাঠামো ও প্রশাসনিক জটিলতাসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এই সচিব কমিটি সরকারের কাছে একটি সুপারিশমালা দেবে। সেই সুপারিশের ওপরই নির্ভর করছে ধাপে ধাপে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না কি একবারে বাস্তবায়ন করা হবে।
সেই সঙ্গে বৈঠকে বেতন কমিশনের সুপারিশ করা ২০টি গ্রেড নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে। গ্রেডের সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকবে না কি কমানো বা বাড়ানো হবে, সে বিষয়েও মতামত উঠে এসেছে। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী ২০তম গ্রেডের বেতন ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা এবং প্রথম গ্রেডের বেতন এক লাখ ৬০ হাজার টাকা রাখার প্রস্তাব রয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধিদল ১২ থেকে ১৬ জুলাই ঢাকা সফর করেছে। সফরকালে প্রতিনিধিদল অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করে। তারা চলমান আর্থিক সংকট ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। তবে আইএমএফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি বা বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
আরও পড়ুন
পে-স্কেলের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছে সচিব কমিটি
নতুন বাজেটে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ
নতুন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাবদ মোট ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ২৫ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে কর্মকর্তাদের বেতনের জন্য ১৪ হাজার ৪ কোটি টাকা, কর্মচারীদের বেতনের জন্য ৩০ হাজার ৭০৬ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন ধরনের ভাতার জন্য ৪৫ হাজার ১২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এছাড়া জনপ্রশাসন খাতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এক লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের তুলনায় প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকা বেশি। এ বাড়তি বরাদ্দের বড় একটি অংশ থোক বরাদ্দ হিসেবে রাখা হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নে ব্যয় করা হতে পারে।
গেজেট প্রকাশ হওয়ার অপেক্ষায় ২১ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও পেনশনভোগী/ফাইল ছবি
গেজেট না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না
নতুন পে-স্কেল বাস্তবানের লক্ষ্যে বাজেটে সরকার এই বড় বরাদ্দ রাখলেও সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটছে না। কারণ, এ বিষয়ে এখনো গেজেট জারি না হওয়া। এ নিয়েও ভিন্ন ভিন্ন তথ্য মিলছে। একটি সূত্র বলছে, আগস্টেই গেজেট জারি হতে পারে। তবে আরেকটি সূত্রের দাবি, অক্টোবরের আগে তা হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। এ অনিশ্চয়তার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে হতাশা বাড়লেও তারা এখনো আশাবাদী যে, কিছুটা বিলম্ব হলেও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হবে। তাই এখন সবার নজর কবে প্রজ্ঞাপন জারি হয়, সেদিকেই।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বাজেটে বাড়তি অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, এটা ঠিক আছে। কিন্তু এবারের বাজেটের ঘাটতিও অনেক বড়। দুই লাখ ৩৬ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা ঘাটতি ধরে বাজেট দেওয়া হয়েছে। যেসব খাত থেকে এই ঘাটতি অর্থ পাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে, কোনো কারণে যদি সেই অর্থ না আসে, তাহলে সরকার এখানে হাত দিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তব্যে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং আমরা নতুন-পে স্কেল পাবো, এটা নিয়ে সবাই আশাবাদী। তবে গেজেট না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না। কীভাবে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করা হবে, বেতন কত বাড়ছে, ভাতার কী হবে, গেজেট প্রকাশের পরই তা বোঝা যাবে। তাই নতুন পে-স্কেলের গেজেট কবে হবে, এটা এখন সব থেকে বড় বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে সরকারি কর্মকর্তাদের কাছে।’
আরও পড়ুন
সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধি: বাকিদের চলবে কেমন করে?
‘আমরা কীভাবে চলছি, তা আমরাই জানি’
একই কথা শোনা গেলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী যেহেতু ঘোষণা দিয়েছেন, সেহেতু আমরা নতুন পে-স্কেল পাবো, এটা মোটামুটি নিশ্চিত। তবে কবে পাবো, সেটা নিয়ে তো অনিশ্চয়তা রয়েই গেছে। গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত অনিশ্চয়তা কাটছে না। গেজেট প্রকাশ হলেই আমরা কিছুটা স্বস্তি পাবো।’
বেতন বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি ৬০ হাজার টাকার মতো বেতন পাই। এই বেতন দিয়ে বর্তমান বাজারদর এবং অন্যান্য খরচ বিবেচনা করে দেখেন, আমরা কীভাবে চলছি। একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে চাকরি করছি, আমি তো চাইলেই যেখানে-সেখানে থাকতে পারি না। পরিবার, আত্মীয়-স্বজন আছে, সবাইকে নিয়ে চলতে হয়। আমরা কীভাবে চলছি, তা আমরাই জানি।’
একটি নতুন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাও রয়েছে। সরকার আইএমএফের কাছ থেকে নতুন ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের অঢেল সম্পদ যে আছে তা তো নয়। আমরা সবকিছুই বিবেচনা করছি। আশা করি নতুন পে-স্কেল সর্বোত্তম উপায়েই বাস্তবায়ন হবে।- সচিব কমিটির এক সদস্য
বেতন-ভাতার সম্পূর্ণই প্রতি মাস খরচ হয়ে যায়
এ নিয়ে কথা হলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বাড়লে মূল্যস্ফীতি বাড়বে, এমন সমালোচনা শুনছি। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে চলছি, সেটা কেউ বলে না। অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা যে বেতন-ভাতা পান, তার প্রায় সম্পূর্ণ অংশই প্রতি মাসে খরচ হয়ে যায়। সঞ্চয় হয় খুবই কম। আর পরিবারে যদি এক বা দুজন অসুস্থ মানুষ থাকে, তার পক্ষে চলা খুবই কঠিন হয়ে যায়।’
‘আমরা যতটুকু শুনছি, নতুন পে-স্কেল দেওয়ার বিষয়ে সরকার খুবই আন্তরিক। তবে গেজেট না হওয়া পর্যন্ত মনের মধ্যে একটু সংশয় থাকবে, এটাই স্বাভাবিক। তাছাড়া বিভিন্ন মাধ্যমে বিভিন্ন কথা শুনছি। কেউ কেউ বলছেন, কমিশন যে সুপারিশ করেছে তা কাটছাট করা হবে। সুতরাং নতুন পে-স্কেলে কী পরিমাণ বেতন-ভাতা বাড়বে, তা গেজেট না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত হতে পারছি না।’
আরও পড়ুন
২৭তম বিসিএস / ১৭ বছরের অপেক্ষা শেষে চাকরি, ছয় মাসেও নেই বেতন
ধাপভিত্তিক বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত জটিলতা
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধার হিসাব-নিকাশ করতেই হিমশিম খাচ্ছে সরকার। এ কারণেই সচিব কমিটি একাধিক বৈঠক করেও বাস্তবায়ন কৌশল চূড়ান্ত করতে পারেনি। আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় বেতন কমিশনের সুপারিশে কিছু কাটছাঁটের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। মূল বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধায় পরিবর্তন আনার পাশাপাশি তা তিন ধাপে বাস্তবায়নের সুপারিশ করা হতে পারে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রথম ধাপে শুধু মূল বেতন কার্যকর হবে। পরবর্তী ধাপগুলোতে অন্যান্য ভাতা ও সুবিধা যুক্ত হবে। তবে ধাপভিত্তিক বাস্তবায়নে প্রযুক্তিগত জটিলতাও দেখা দিয়েছে। বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস প্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পরিশোধ করা হয়।
সচিব কমিটির নেতৃত্বে আছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি/ফাইল ছবি
ফলে মূল বেতনকে কয়েক ধাপে কার্যকর করতে হলে পুরো সফটওয়্যার কাঠামোয় পরিবর্তন আনতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ ও জটিল। এসব কারণে নতুন পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নতুন অর্থবছর শুরু হলেও এখনো গেজেট জারি করা সম্ভব হয়নি। যদিও সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ১ জুলাই থেকেই নতুন পে-স্কেল কার্যকর হিসেবে গণ্য হবে এবং সে অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা পাবেন।
সচিব কমিটি পূর্ণাঙ্গ-নিখুঁত সুপারিশ দিতে চায়
সচিব কমিটির এক সদস্য বলেন, কমিটি দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা করছে। তবে এটি একটি বড় কাজ। কোথাও যাতে কোনো ত্রুটি না থাকে, সেদিকে নজর রেখেই কমিটি কার্যক্রম চালাচ্ছে। সম্ভাব্য সবগুলো বিষয় পর্যালোচনা করছে। কমিটি পূর্ণাঙ্গ এবং নিখুঁত সুপারিশ দিতে চায়। সে জন্য কমিটির যতগুলো বৈঠক করার দরকার, ততগুলো করতে পারবে। এটা কমিটির স্বাধীনতা। সুপারিশ চূড়ান্ত করতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।
আরও পড়ুন
আপিল বিভাগের রায় / ২৫ বছর পূরণ হওয়ার আগে পদত্যাগ করলে পেনশন পাবেন না সরকারি চাকরিজীবীরা
অর্থ সংকট কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একটি নতুন সরকার দেশ পরিচালনা করছে। বৈশ্বিক অনিশ্চয়তাও রয়েছে। সরকার আইএমএফের কাছ থেকে নতুন ঋণ নেওয়ার চেষ্টা করছে। আমাদের অঢেল সম্পদ যে আছে তা তো নয়। আমরা সবকিছুই বিবেচনা করছি। আশা করি নতুন পে-স্কেল সর্বোত্তম উপায়েই বাস্তবায়ন হবে।’
বেতন-ভাতার জন্য এবং জনপ্রশাসন খাতে বাজেটে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তা কি বাজেট ঘাটতি পূরণে ব্যবহার করা হতে পারে? এমন প্রশ্ন করা হলে সচিব কমিটির এই সদস্য বলেন, ‘সরকার প্রয়োজন মনে করলে করতে পারে। তবে এটি নিয়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। আমাদের সবার মনে রাখা উচিত, এবারের বাজেটের আকার যেমন বড়, ঘাটতিও বড়। পরিকল্পনা মাফিক ঘাটতি অর্থায়ন না হলে, সরকার বিকল্প ভাবতেই পারে।’
আরও পড়ুন
আইনগত সহায়তা অধিদপ্তর / বদলি নিয়ে তদবির ও সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্য করলে ব্যবস্থা
বেতন কমিশনের সুপারিশ হুবহু গ্রহণ হয়নি
২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন আট হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন এক লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণের সুপারিশ করা হয়।
তবে পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বর্তমান সরকার সেই সুপারিশ হুবহু গ্রহণ করেনি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বে নতুন একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। দেশের রাজস্ব আয়, মূল্যস্ফীতি, বাজেট ঘাটতি, সরকারি ব্যয় ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় কমিটি নতুন পে-স্কেলের খসড়া প্রস্তুত করেছে। বর্তমানে সেই খসড়ার ভিত্তিতেই গেজেট চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
এমএএস/একিউএফ








