স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ‘শিক্ষামন্ত্রীর আলোচনা হয়, সমালোচনা হয়, আমারও হয়। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বলেছিলেন—কলকাতার দাদারা যদি প্রশংসা করে, তাহলে বুঝতে হবে আমি সঠিক কাজ করছি না। আর যদি সমালোচনা করে, তাহলে বুঝতে হবে আমি সঠিক কাজই করছি। আমারও মনে হয়, আমাদের নামে আলোচনা-সমালোচনা হয়, সঠিক কাজটি করছি বলেই।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন ও নবাগত শিক্ষার্থীদের বরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দায়িত্বে থেকেও যারা কাজ করেন না, তাদের নিয়ে কোনো আলোচনা বা সমালোচনা হয় না। কিন্তু যারা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করেন, তাদের কাজ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা হবেই। এটিই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সেটাকে মেনে নিয়েছি, আমরা প্রতিবাদ করি না, আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি ভরা সংসদে দাঁড়িয়ে।
তিনি বলেন, মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী ছোট্ট একটি শব্দ উদ্ধৃত করে বলেছিল, সেই শব্দের কারণে ভরা সংসদে দাঁড়িয়ে জাতির সামনে দুঃখ প্রকাশ করেছে, এটাই হচ্ছে গণতন্ত্র। আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আসলে আমরা পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে সংসদে জাতির সামনে এবং ১৮ কোটি মানুষের ভোটে নির্বাচিত ৩০০ জন এমপির সামনে জবাব দেই।
মীর শাহে আলম বলেন, ভোলায় নকলের সুযোগ দেওয়ার দাবিতে মিছিল হওয়া দুঃখজনক। জুলাই যোদ্ধাদের আমি শ্রদ্ধা ও স্নেহ করি। অনেকেই বলেন, তাদের আন্দোলনের কারণেই আজ এহসানুল হক মিলন শিক্ষামন্ত্রী এবং আমি প্রতিমন্ত্রী। আমরা সেটি অস্বীকার করছি না। তবে আমরা ২০ বছর ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি। জুলাই যোদ্ধাদের আমরা অসম্মান করতে চাই না। কিন্তু সেই সম্মানের অর্থ এই নয় যে, নকল করতে দিতে হবে বা বৃষ্টিতে ভিজেছি বলে অটোপাস দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমাদের দক্ষ, প্রাজ্ঞ ও অভিজ্ঞ শিক্ষামন্ত্রী এসব বিষয়ে কথা বলেন, তখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ “শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাই” স্লোগান দেন। এমনকি কেউ কেউ সরকারের পদত্যাগও দাবি করেন। এ ধরনের দাবি অযৌক্তিক এবং দায়িত্বশীল আচরণের পরিচায়ক নয়।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে নানা ক্ষেত্রে অবহেলার শিকার। ঢাকার মানুষ সুযোগ পেলেই উত্তরাঞ্চলের মানুষকে ‘মফিজ’ বলে তাচ্ছিল্য করে। এই মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষকে আরও বেশি পড়াশোনা, দক্ষতা অর্জন ও কর্মক্ষমতা বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, নোয়াখালী বা কুমিল্লার মানুষ নিজেদের জেলার জন্য যেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেন, উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলার মানুষকেও সেভাবে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে।
মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উত্তরাঞ্চলের উন্নয়নকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। সেই ভাবনা থেকেই বগুড়ায় আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে উত্তরাঞ্চলের মর্যাদা আরও বৃদ্ধি পায়। এতদিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিমানঘাঁটি থাকলেও উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় কোনো বিমানঘাঁটি ছিল না। এক মাস আগে বগুড়ায় বিমানঘাঁটি স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বগুড়া বিমানঘাঁটিকেন্দ্রিক প্রযুক্তিনির্ভর ড্রোন তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হবে, যা নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি বগুড়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কার্গো সুবিধা চালু হলে নওগাঁ, জয়পুরহাট, বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার সবজি, কৃষিপণ্য এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং শিল্পের পণ্য সহজেই বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।
নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এ এস এম আমানুল্লাহ, বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.কুদরত-ই-জাহান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, নওগাঁ-২ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বক্তব্য দেন।
উল্লেখ্য, হিসাববিজ্ঞান ও আইন বিভাগে ৪০ জন করে মোট ৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আনুষ্ঠানিকভাবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করল নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়।
আরমান হোসেন রুমন/কেএইচকে








