ভোলার চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলার সীমান্তবর্তী ঢালচরের চরনিজাম কালকিনি হয়ে সাগর রুটে দেশে উৎপাদিত সার মিয়ানমারে পাচার হচ্ছে। সরকারি গুদাম থেকে কোটি টাকার সার পাচারের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। ঢালচর ও চরনিজামের একটি চক্র ওই সার পাচারের কাজে জড়িত। পাচার বন্ধে কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ কোনো অভিযান নেই বলেও অভিযোগ স্থানীয়দের। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে ৫ হাজার বস্তা সার নিয়ে একটি কার্গো বোট চরনিজাম অতিক্রমকালে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ীদের নজরে আসে। ওই কার্গো থেকে মাছের ট্রলারে বেশ কিছু সার নামিয়ে দেয়। স্থানীয় একটি চক্রকে ৫ লাখ টাকা এবং ৭শ বস্তা সার নামিয়ে রাখার বিনিময়ে ম্যানেজ করে অবশিষ্ট সার নিয়ে সটকে পড়ে কার্গোটি। স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে সার বোঝাই তিনটি ট্রলার রেখে পালিয়ে যায় ম্যানেজকারীদের একটি গ্রুপ। এ নিয়ে তোলপাড় চলছে ওই এলাকায়। বিষয়টি রাতে ঢালচর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামানকে জানানো হয়। শনিবার দুপুর পর্যন্ত অভিযানে যায়নি পুলিশ। স্থানীয় ইউছুফ ফরাজী, মো. ফারুক জানান, একই তথ্য কোস্ট গার্ড ও নৌ পুলিশকেও জানানো হয়েছিল। কোনো টিমকে অভিযানে দেখা যায়নি। আবার পাচারকালে কার্গো থেকে ৫ লাখ টাকা চাঁদা নেওয়ার বিষয় নিয়েও চলছে গ্রুপিং। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানান স্থানীয়রা।
পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. মনিরুজ্জামান যুগান্তরকে জানান, চরনিজাম রুটে পাচারকালে সার বোঝাই ট্রলার স্থানীয়রা আটকে রেখেছে, এমন খবর নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড থেকে তাকে জানানো হয় শুক্রবার রাতে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে সাগর মোহনা উত্তাল থাকায় তাদের পক্ষে সার উদ্ধারে যাওয়া সম্ভব হয়নি। এদিকে স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশনের সিলমোহরকৃত প্রতিটি সাদা বস্তায় রয়েছে ৫০ কেজির গ্রানুলার ইউরিয়া সার। প্রতি বস্তা সারের ফ্যাকটরির বিক্রয় মূল্য ১ হাজার ২৫০ টাকা। ওই সার চট্টগ্রামের মিল থেকে বিভিন্ন জেলার বাফার গুদামে প্রেরণ করা হয়। সরকারের নির্ধারিত ডিলাররা ওই সার উত্তোলন করে স্থানীয় বাজারে খুচরা বিক্রেতাদের কাছে বা কৃষকের কাছে বিক্রি করে থাকেন। এমন নিয়মের মধ্যেই ভোলা থেকে প্রতিনিয়ত সার পাচার হচ্ছে। এর আগে ভোলার গুদাম থেকে বরগুনা জেলার ১৬ ডিলারের নামে ইউরিয়া সার উত্তোলন করে ৩টি ট্রাক বোঝাই করে পাচারকালে স্থানীয়দের নজরে এলে পুলিশকে জানায়। ইলিশা পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ ওই ট্রাকসহ সার জব্ধ করেন। এরপরও বন্ধ হয়নি সার পাচারের কাহিনি। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর সার বোঝাই কার্গো পাচারের সময় স্থানীয় বিএনপি দলীয় কামরুল খলিফা, নিরবের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে। এ সময় ৫ লাখ টাকার বিনিময়ে কার্গোটি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ৫শ থেকে ৭শ বস্তা সার কয়েকটি ট্রলারে নামিয়ে ওই কার্গো সটকে পড়ে। এর পর স্থানীয়রা ওই জেলে ট্রলারগুলোকে ধাওয়া করে আটকে দেয়। সারসহ ৩টি ট্রলার কালকিনি এলাকায় রয়েছে বলেও স্থানীয় সূত্র জানায়।








