এক দলের নাম সবার আগে আসে কখনো বিশ্বকাপ না জেতা সেরা দলের আলোচনায়। অন্য দলটি ছয়বার বিশ্বকাপে খেলে সর্বোচ্চ সাফল্য পেয়েছে সর্বশেষবার সেমিফাইনালে গিয়ে। ফুটবলীয় শক্তি আর ঐতিহ্যে নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে মরক্কোর তুলনাতে তবু হয়তো অনেকেই রাজি হবেন না।
কিন্তু এবার সেটা করতে হচ্ছে, কারণ মেক্সিকোর মনতেরেইতে সকাল সাতটায় শুরু হওয়া দুই দলের লড়াইটাকে অনেকে বিশ্বকাপের শেষ ৩২–এর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচ হিসেবে দেখেছেন। মাঠের খেলার বাইরেও দুই দলের সাক্ষাৎ উত্তাপ ছড়াচ্ছে মাঠের বাইরের এক কারণেও।
বিতর্কের আগুনটা জ্বালিয়েছেন সাবেক ডাচ ফুটবলার রাফায়েল ফন ডার ভার্ট। খেলা ছাড়ার পর তিনি এখন ফুটবল বিশ্লেষক, গত মার্চে এক টিভি অনুষ্ঠানে মরক্কোকে নিয়ে বিস্ফোরক এক মন্তব্য করেছিলেন তিনি, ‘আমি খুব রূঢ় হতে চাই না, তবে আমার মনে হয়, যারা নেদারল্যান্ডসের হয়ে খেলার জন্য যথেষ্ট ভালো নয়, তারাই কেবল মরক্কোকে বেছে নিয়েছে। শুধু জিয়েশ (হাকিম) বাদে, আমি ওকে আমার দলে চাইতাম।’
ফন ডার ভার্টের মন্তব্য ছিল মরক্কো দলে নেদারল্যান্ডসের অন্য রকম একটি যোগসূত্র নিয়ে। ঐতিহ্যগতভাবেই প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার মরোক্কান থাকেন নেদারল্যান্ডসে। ২০১০ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস দলে ছিলেন দুজন মরোক্কান বংশোদ্ভূত ফুটবলার; খালিদ বোহলারুজ ও ইব্রাহিম আফেলাই।

বর্তমান মরক্কো দলের তিনজনেরও বেড়ে ওঠা আর ফুটবলের হাতেখড়ি নেদারল্যান্ডসেই। সোফিয়ান আমরাবাত, নুসায়ের মাজরাউই ও আনাস সালেহ এদ্দিন—এই তিন ফুটবলার তাই খেলতে পারতেন কমলা জার্সিতেও।
কিন্তু মরক্কোর অভিবাসী ফুটবল প্রকল্পের অংশ হিসেবে তারা বিশ্বকাপে প্রতিনিধিত্ব করছেন আফ্রিকার দেশটির। এই বিশ্বকাপে মরক্কোর হয়ে আলো ছড়ানো ইসমায়েল সাইবারি তো গত মৌসুমেও ছিলেন ডাচ ক্লাব পিএসভিতে।
নকআউট শুরুর পর ফাইনালে কোন দুই দলকে দেখছে সুপারকম্পিউটারফন ডার ভার্টের মন্তব্যের জন্যই হোক বা অন্য কারণে, নেদারল্যান্ডসপ্রবাসী মরোক্কানরা এই বিশ্বকাপে দলের জয়ে এত বেশি উদ্যাপন করছেন যে ডাচ পুলিশ এই ম্যাচের আগে সমর্থকদের শান্ত করার জন্য রীতিমতো অনুনয়ই করেছে। আজকের ম্যাচে তো এই মরোক্কানরা নেদারল্যান্ডসের জন্য ‘ঘরের শত্রু বিভীষণে’ও রূপ নিতে পারেন!
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোর চোখে পড়ার মতোই খেলেছে। জাপানের সঙ্গে ড্র করলেও সুইডেন আর তিউনিসিয়ার বিপক্ষে ডাচদের জয় তাদের স্বপ্ন দেখাচ্ছে বড় কিছুর।

অন্যদিকে মরক্কোও হেঁটেছে একই পথে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্রয়ের পর হারিয়েছে স্কটল্যান্ড ও হাইতিকে। নেদারল্যান্ডস কোচ রোনাল্ড কোমান হয়তো সে কারণেই এই ম্যাচে নিজেদের সরাসরি ফেবারিট দাবি করলেন না, ‘আমি ঠিক নিশ্চিত নই আমরা মরক্কোর বিপক্ষে ফেবারিট কি না। ওদের দলে ভালো অনেক খেলোয়াড় আছে, যারা সহজেই গোল করতে পারে।’
তবু আশাবাদী তো হতেই পারেন কোমান, ‘আমাদের ছেলেরা বেশ ভালো করছে। ওদের মধ্যে বোঝাপড়াটাও বেশ ভালো।’
মরক্কোর সঙ্গে অবশ্য একটা সুখস্মৃতি আছে কোমানের। বিশ্বকাপে দুই দলের দেখা হয়েছিল একবারই। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে অরলান্ডোর সেই ম্যাচে মরক্কোকে হারিয়েছিল নেদারল্যান্ডস, যে ম্যাচের অধিনায়ক ছিলেন কোমান। মরক্কোকে হারাতে কী করা লাগে, কোমান তো তা জানেনই!
বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বের সেরা একাদশ: মেসি–এমবাপ্পের সঙ্গে যাঁরা আছেন







