নেত্রকোনার দুর্গাপুরে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) পরিচয় দিয়ে ডাকাতির অভিযোগে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে নগদ ১১ হাজার ৪০০ টাকা এবং লুট করা কিছু কাপড়চোপড় উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) রাত আনুমানিক ২টার দিকে উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের আব্দুল ওয়াদুদ মিয়ার বাড়িতে এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।

আটককৃতরা হলেন, হবিগঞ্জ জেলা বানিয়াচং থানার বাসিন্দা রাজ কুমার (২৬), জামালপুর জেলার ইসলামপুর থানার আব্দুল হামিদ (৪৫) ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চরলাল এলাকার শাহীন আলম (৪৮)।

পুলিশ জানায়, আব্দুল ওয়াদুদ মিয়ার ভাতিজা সায়েদুর রহমান রামিমের সহযোগিতায় সাত সদস্যের একটি দল ডিবি পুলিশের পরিচয়ে গভীর রাতে বাড়িতে প্রবেশ করে। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের হাত-পা ও মুখ বেঁধে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, কাপড়চোপড়সহ মূল্যবান মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ঘটনার পর স্থানীয়রা দুর্গাপুর থানায় খবর দিলে ওসি খন্দকার শাকের আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও স্থানীয় যুবকদের সহযোগিতায় বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের একপর্যায়ে ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টার মধ্যে কলমাকান্দা উপজেলার সিদলী এলাকার তালতলা থেকে ডাকাত দলের তিন সদস্যকে আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির সময় ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন, নগদ ১১ হাজার ৪০০ টাকা এবং লুট হওয়া কিছু কাপড়চোপড় উদ্ধার করা হয়। তবে সায়েদুর রহমান রামিমসহ ডাকাত দলের অন্য সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ বলেন, ‘তারা ডিবি পরিচয়ে ওই বাড়ির সদস্যদের হাত-পা বেঁধে ডাকাতি করেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই কলমাকান্দা উপজেলার সিদলী এলাকার তালতলা থেকে ডাকাত দলের তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হয়েছি। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, এতে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যাবে। পালিয়ে যাওয়া ডাকাত চক্রের অন্যান্য সদস্যদের আটকের অভিযান চলছে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এইচ এম কামাল/কেএইচকে/এএসএম