দেশজুড়ে বন্যা পরিস্থিতিতে এইচএসসি পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে প্রকাশ্যে-অনলাইনে শিক্ষামন্ত্রীকে নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে। এরইমধ্যে সিটি কলেজের একজন ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর একটি অডিও ক্লিপ ভাইরাল হয়েছে। সেখানে শিক্ষামন্ত্রী পরীক্ষার্থীদের ‘ব্রয়লার মুরগি’ বলেছেন বলে ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। তবে, শিক্ষামন্ত্রী নিজের মেয়েকে এই কথা বলেছেন বলে দাবি ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছিরের।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলনরত এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলার সময় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক এ কথা বলেন।
ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন যে তিনি তার মেয়েকে বলেছেন যে এখনকার বৃষ্টি বাদলে ভিজলে যে একটু বয়লার মুরগির মতো। উনি ওনার মেয়েকে বলেছেন। এটা উনি বলেছেন। এখন শিক্ষার্থীরা হয়তো এ কথাতে বিভ্রান্ত হচ্ছে বলে আমাদের মনে হয়েছে।
তিনি বলেন, এটি আমাদের কাছে দৃষ্টিগোচর হয়নি। তারা যে দাবি করেছে সে দাবির প্রতি সমর্থন রেখেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল গতকালই কিন্তু আমরা প্রেসলিস্ট দিয়েছি যে সাময়িক সময়ের জন্য যে পরীক্ষা স্থগিতকরণের বিষয়।
নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, সারাদেশে অতিবৃষ্টির কারণে তো বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আপনারা দেখেছেন যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এরইমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম বোর্ডে কিন্তু পরীক্ষা সাময়িক সময়ের জন্য স্থগিত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
মন্ত্রীর কথোপকথন ভাইরাল / ‘এরা তো ফার্মের মুরগি, বৃষ্টিতে ভিজলেই জ্বর আসবে’
তিনি আরও বলেন, তারা প্রতিনিধি নির্বাচন করে আসুক আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল তাদের সেখানে নিয়ে যাবো। তারা এর বাইরে বলছে রাস্তা অবরোধ করবে। আমরা বলছি দাবি যেহেতু মানাই হচ্ছে তাহলে রাস্তা কেন অবরোধ করতে হবে।
বিতর্কের প্রেক্ষাপট
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিটি কলেজের একজন ছাত্রীর সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীর মোবাইল ফোনে কথা হয়। ওই ছাত্রীর অভিভাবক মন্ত্রীকে হোয়াটসঅ্যাপে কল দিয়ে সন্তানের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেন। রোববার (১২ জুলাই) রাতে এ কথোপকথন হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
মূলত মেয়েকে অভয় দিতে ওই ছাত্রীর অভিভাবক অনুরোধ করে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলানোর ব্যবস্থা করেন। কথা বলার সময় অন্য আরেকটি মোবাইল ফোন দিয়ে তা ভিডিও করা হয়। সেই ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়েছে।
কথোপকথনে শিক্ষামন্ত্রীকে বলতে শোনা যায়, মিটিংয়ে একজন বলছিলেন, একটু ভিজলেই আমার মেয়ের জ্বর চলে আসে। বলছিলাম যে, এগুলো তো ফার্মের মুরগি। একটু ভিজলেই জ্বর চলে আসে। তখন আমি মিটিংয়েই বলছিলাম যে, একদিন বৃষ্টিতে ভিজবে জ্বর আসবে, তখন পরের তিনদিন তো আর পরীক্ষা দিতে পারবে না এরা।
এহছানুল হক মিলন বলেন, আমি পরীক্ষা স্থগিতের পক্ষে ছিলাম। কিন্তু ডিসিদের ফোন করা হলো, আবহাওয়াবিদদের সঙ্গে কথা হলো; তারা জানালেন যে, আগামীকাল (সোমবার) বৃষ্টি হবে না। আজ (রোববার) রাতেই শেষ। তখন পরীক্ষা চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হলো।
এএমএ








