ইউরো ২০২৪ জয়ের পর থেকেই স্পেনকে ঘিরে ছিল নতুন স্বর্ণযুগের প্রত্যাশা। উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলনই যেন দেখা যাচ্ছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দলের পারফরম্যান্সে। ধারাবাহিকতা, পরিণত ফুটবল, বলের ওপর অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ আর আক্রমণ-রক্ষণে ভারসাম্য—সব মিলিয়ে এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে পরিপূর্ণ দলগুলোর একটি হয়ে উঠেছে স্পেন।
এবার সেই যাত্রার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। সেমিফাইনালে প্রতিপক্ষ ফ্রান্স। বিশ্বকাপের শেষ চারে মুখোমুখি টুর্নামেন্টের সবচেয়ে ছন্দে থাকা দুই দল।
স্পেনের পথচলাটা ছিল প্রায় নিখুঁত। গ্রুপপর্বে তারা নিজেদের আধিপত্য দেখিয়েই নকআউটে ওঠে। এরপর শেষ বত্রিশে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয়। শেষ ষোলোতে শক্তিশালী পর্তুগালকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নেয়। আর শেষ আটে বেলজিয়ামের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয় স্পেনকে এনে দেয় সেমিফাইনালের টিকিট।
শুধু ফল নয়, স্পেনের খেলার ধরনই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। বল দখলে রেখে প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করে ফেলা, ছোট ছোট পাসে খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা এবং বল হারানোর সঙ্গে সঙ্গে উচ্চ প্রেসিং—স্প্যানিশ ফুটবলের ঐতিহ্যবাহী দর্শনের আধুনিক সংস্করণই দেখা যাচ্ছে এই দলে। টিকি-টাকার পুরোনো ছাপ থাকলেও বর্তমান স্পেন অনেক বেশি সরাসরি, গতিশীল এবং আক্রমণাত্মক।
মাঝমাঠে রদ্রি দলের প্রাণ। তাঁর পজিশনিং, পাসিং ও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা স্পেনকে প্রতিটি ম্যাচে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। পেদ্রি সৃজনশীলতার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, আর দুই প্রান্তে লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামসের গতি ও ড্রিবলিং প্রতিপক্ষের রক্ষণকে বারবার বিপদে ফেলেছে। বিশেষ করে ইয়ামাল এই বিশ্বকাপে নিজেকে অন্যতম বড় তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
রক্ষণেও স্পেন অসাধারণ শৃঙ্খলাবদ্ধ। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করেছে তারা। গোলরক্ষক থেকে শুরু করে ডিফেন্ডার—সবার মধ্যে বোঝাপড়া এতটাই শক্তিশালী যে প্রতিপক্ষ খুব কমই পরিষ্কার গোলের সুযোগ তৈরি করতে পেরেছে। এই দৃঢ় রক্ষণই এখন পর্যন্ত স্পেনের সবচেয়ে বড় পরিচয়গুলোর একটি।
দলের আরেকটি বড় শক্তি হলো গভীরতা। প্রথম একাদশের বাইরে থেকেও মিকেল মেরিনোর মতো ফুটবলার ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। ফলে ম্যাচের শেষ ভাগেও স্পেন একই তীব্রতা ধরে রাখতে পারে।
স্পেন বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলেছে একবারই—২০১০ বিশ্বকাপে। সেবার শিরোপাও জিতেছিল তারা। কিন্তু সেই অর্জন নিয়েই সন্তুষ্ট থাকার দল নয় স্পেন—এটা প্রমাণ করতে ফ্রান্সকে হারাতেই হবে তাদের। পারবে স্পেন?








