নির্বাচন ছাড়াই চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা ও বিস্ফোরক আইনের এক মামলার এজাহারভুক্ত আসামিকে সাধারণ সম্পাদক মনোনীত করার অভিযোগ এসেছে।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দের সই করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২৫ সদস্যের কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে পদাধিকারবলে ইউএনওকে সভাপতি এবং এস এম চিশতীকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়। তবে প্রজ্ঞাপনটি বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) প্রকাশ্যে আসে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এস এম চিশতী লোহাগাড়া সদর ইউনিয়নের দরবেশহাট এলাকার বাসিন্দা। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলার অভিযোগে ২০২৪ সালের ২ অক্টোবর দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের এক মামলার এজাহারভুক্ত আসামি তিনি। একই সঙ্গে তিনি সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক এস এম মামুনের শ্যালক।

আরও পড়ুন

পদে ফেরার চিঠি পাওয়ার আগেই ‘ভাড়াটে খুনি’র হাতে প্রাণ গেল বিএনপি নেতার

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন, ২০১৮-এর ধারা ২(৪) ও ৮ অনুযায়ী গত ৩০ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের পরিচালক টিটন খীসার সই করা প্রজ্ঞাপনে লোহাগাড়া উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাত সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সভাপতি এবং কুতুব উদ্দিনকে সদস্যসচিব করা হয়। একই সঙ্গে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।

অভিযোগ রয়েছে, সেই নির্দেশনা অনুসরণ না করে এবং অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন আয়োজন ছাড়াই ২৫ সদস্যের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন

ময়মনসিংহে ফের ট্রেন লাইনচ্যুত, জামালপুর রুটে চলাচল বন্ধ

এ বিষয়ে উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব কুতুব উদ্দিন বলেন, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন নিয়ে কোনো সভা হয়নি। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বায়েজীদ-বিন-আখন্দ বলেন, আমি একটি জুম মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি। পরে কথা বলবো। এরপর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিয়া বলেন, বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যস্ত থাকায় বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। এখন যেহেতু বিষয়টি জেনেছি, অবশ্যই তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমআরএএইচ/কেএসআর