মেঘনা অববাহিকায় জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন নিয়ে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) একটি গবেষণা প্রকল্পের প্রশংসা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা–২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত প্রদর্শনীতে প্রকল্পটি দেখে তিনি এটিকে ‘ইনোভেটিভ প্রজেক্ট’ বলে উল্লেখ করেন।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ঢাকার চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত প্রদর্শনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সামনে প্রকল্পটি উপস্থাপন করেন নোবিপ্রবির বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. মহিনুজ্জামান।
প্রকল্পটি পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এটা একটা ইনোভেটিভ প্রজেক্ট। মাঠ পর্যায়ে এক্সপেরিমেন্ট করবেন।”
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার ওপর বাড়তে থাকা ঝুঁকি মোকাবিলায় নোবিপ্রবির পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ ‘মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের ফসলের বৃদ্ধি ও উৎপাদনের ওপর জলবায়ুর প্রভাব নিরূপণ এবং ভবিষ্যতের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন’ শীর্ষক গবেষণা প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের (বিসিসিটিএফ) অর্থায়নে পরিচালিত দুই বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের লক্ষ্য হলো, মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ফসলের বৃদ্ধি ও উৎপাদনশীলতা মূল্যায়ন করা এবং ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন করা। প্রকল্পটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক মো. মহিনুজ্জামান।
প্রকল্পের আওতায় ১৯৫৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঐতিহাসিক আবহাওয়ার তথ্য বিশ্লেষণ করে ২১০০ সাল পর্যন্ত মেঘনা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলের সম্ভাব্য জলবায়ু পরিস্থিতির পূর্বাভাস তৈরি করা হবে। সেই পূর্বাভাসের ভিত্তিতে একটি আধুনিক স্বয়ংক্রিয় গ্রিনহাউজে ভবিষ্যতের জলবায়ু পরিবেশ অনুকরণ করে বর্তমানে প্রচলিত সয়াবিন ও সম্ভাবনাময় মিলেটজাতীয় ফসলের বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা এবং জলবায়ু-সহিষ্ণুতা পরীক্ষা করা হবে।
এছাড়া, মাইক্রো-ক্লাইমেট পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় আবহাওয়ার প্রভাব বিশ্লেষণ করে কৃষকদের জন্য কার্যকর অভিযোজন কৌশল প্রণয়ন করা হবে।প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে ঢাকা ও নোয়াখালীতে ইনসেপশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রিনহাউজ পরিদর্শনের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন গবেষকরা।
নোবিপ্রবি ক্যাম্পাসে অত্যাধুনিক গ্রিনহাউজ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। প্রকল্পের জন্য আধুনিক গবেষণাগার ও কার্যালয় স্থাপন, গবেষণা সহকারী ও ল্যাব টেকনিশিয়ান নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক মো. মহিনুজ্জামান বলেন, “এই গবেষণার মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের জন্য উপযোগী জলবায়ু-সহিষ্ণু ফসল নির্বাচন, কৃষকদের অভিযোজন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বৈজ্ঞানিক তথ্যভিত্তিক সুপারিশ প্রণয়ন করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পটির মাধ্যমে নোবিপ্রবিতে একটি স্থায়ী জলবায়ু গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে।”
তিনি আরো বলেন, “এই কেন্দ্র ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষি, খাদ্যনিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে গবেষণার নতুন সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”








