১৯৯৮ সালের পর ২৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা ঘুচিয়ে বিশ্বমঞ্চে ফেরা। আর ফিরেই কঙ্গো, মেক্সিকো কিংবা আইভরি কোস্টকে পেছনে ফেলে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেওয়া। রূপকথার এখানেই শেষ নয়, পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় করে দিয়ে নরওয়ের ভাইকিংসরা এখন উড়ছে বিশ্ব ফুটবলের আকাশে। তবে আজ রাতে মায়ামি স্টেডিয়ামে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে ফুটবলের পরাশক্তি ইংল্যান্ড। যে দলটির ডাগআউটে টমাস টুখেল এবং মাঠে জুড বেলিংহাম ও হ্যারি কেইনের মতো তারকারা বিশ্বজয়ের স্বপ্ন বুনছেন।বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় সেমিফাইনালে ওঠার এই মরণপণ লড়াইয়ে মুখোমুখি হচ্ছে দুই পরাশক্তি। আর এই মহারণের আগে ফুটবল দুনিয়ার সব আলো কেড়ে নিয়েছেন এক নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন, আর্লিং হলান্ড। ৪ ম্যাচে ৭ গোল করে যিনি কাঁপিয়ে দিচ্ছেন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ।হলান্ড নামের সাইক্লোন থামানোর অবিনাশী ফর্মুলাবিশ্বকাপে নরওয়ের এই গোলমেশিনকে থামানোর কোনো জাদুমন্ত্র যখন কোনো প্রতিপক্ষই খুঁজে পাচ্ছে না, তখন প্রিমিয়ার লীগের সাবেক তারকা গোলকিপার ব্র্যাড ফ্রিডেল দেখিয়েছেন এক ভিন্ন পথ। ফ্রিডেলের মতে, হলান্ডকে আটকে রাখা মানে কেবল তার দিকে নজর রাখা নয়, বরং তার কাছে বলের জোগান বন্ধ করা।'স্পোর্টবাইবেল'-কে ফ্রিডেল বলেন, "আপনি চাইলেই কেবল আর্লিং হলান্ডকে থামিয়ে দিতে পারবেন না—আসলে একটা ম্যাচে সে খুব বেশি বল স্পর্শও করে না। মূল বিষয় হলো তার কাছে বলের জোগান বা সার্ভিস সীমিত করা। আপনি যদি ওদের উইঙ্গার আর ফুল-ব্যাকদের ক্রস করার সুযোগ করে দেন, তবে বিশ্বের সেরা ডিফেন্ডারদের জন্যও হলান্ডকে লাফিয়ে ওঠা বা মার্কারের সামনে এসে বল কেড়ে নেওয়া আটকানো কঠিন হয়ে পড়বে।"ফ্রিডেল আরও যোগ করেন, "আপনার প্রথম কাজ হবে হলান্ডের কাছে বল পৌঁছানো বন্ধ করা। অবশ্য এরপরেও হালান্ড শূন্য থেকেই সুযোগ তৈরি করে নিতে পারে, সে এই কাজে অসাধারণ। নরওয়ে দলে মার্টিন ওডেগার্ডই সবচেয়ে বেশি বলের ছোঁয়া পায়, তাই ওডেগার্ডের কার্যকারিতা আপনাকে কমিয়ে আনতে হবে। তবে তারা একজনের ওপর নির্ভরশীল দল নয়; ওদের আন্তোনিও নুসা, অস্কার ববের মতো আরও অনেক বিপজ্জনক খেলোয়াড় রয়েছে।"ওডেগার্ডের জাদুকরী পাস বনাম বেলিংহামের জিদান রূপব্রাজিলের বিপক্ষে প্রথমার্ধে ৫৩টি পাসের মধ্যে ৫২টিই সফল করেছিলেন নরওয়ের অধিনায়ক মার্টিন ওডেগার্ড। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে আর্সেনালের এই মিডফিল্ডারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ ছিলেন নরওয়ের প্রধান কোচ স্তালে সলবাকেন। সলবাকেন বলেন, "আমাদের দলে ও অমূল্য। নরওয়ের হয়ে ও কখনোই প্রথাগত নাম্বার টেন হিসেবে খেলেনি। ও সবসময়ই একজন 'টু-ওয়ে' খেলোয়াড়, যে ম্যাচের সবকটি অংশেই প্রভাব বিস্তার করতে পারে।"অন্যদিকে, ইংলিশদের তুরুপের তাস জুড বেলিংহাম, যার মুভমেন্টে সাবেক গোলকিপার ফ্রিডেল দেখছেন ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের ছায়া। ফ্রিডেল বলেন, "আমার দেখা সেরাদের কাতারে একদম প্রথম সারিতে থাকবে জুড বেলিংহাম। মাঠে ওর মুভমেন্ট বা নড়াচড়া আমাকে জিনেদিন জিদানের কথা মনে করিয়ে দেয়। এমনকি অল্প জায়গায় টেকনিক্যালিও বেলিংহাম দারুণ দক্ষ। জুডের ৮ নম্বর এবং ১০ নম্বর উভয় পজিশনেই খেলার ক্ষমতা আছে। ও নিচে নেমে ডিফেন্সকে সাহায্য করে, ট্যাকল করতে পারে, দুই বক্সেই শূন্যে ভালো এবং প্রয়োজনে রক্ষণে এসে গুরুত্বপূর্ণ ক্লিয়ারেন্সও করতে পারে। ও মাঠের বিশাল অংশ জুড়ে খেলে, এই দিক থেকে আমি ওকে স্টিভেন জেরার্ডের সঙ্গে তুলনা করতে পারি।"ইতিহাসের পাতায় ১২ বারের দেখায় ইংল্যান্ড ৮ বার জিতলেও, বিশ্বকাপের মঞ্চে এটাই তাদের প্রথম দ্বৈরথ। হ্যারি কেইন ও বেলিংহাম জুটির ১০ গোলের ওপর ভর করে ইংল্যান্ড যখন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ট্রফির স্বপ্ন দেখছে, তখন প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা নরওয়ে প্রস্তুত আরও একটি ইতিহাস লিখতে। মায়ামির সবুজ গালিচায় আজ ছড়াবে রোমাঞ্চের স্ফুলিঙ্গ, যেখানে একপাশে থাকবে হলান্ডের গোলক্ষুধা আর অন্যপাশে ইংলিশদের ঐতিহ্য।
রাজনীতি
ওডেগার্ডের ‘মস্তিষ্ক’ নাকি বেলিংহামের ‘জিদান রূপ’

শেয়ার করুন







