রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে অ্যাডহক কমিটি গঠনে শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় ‘অনিয়ম, বিধিবহির্ভূত কার্যক্রম এবং তথ্য গোপনের’ অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম-নীতির ‘তোয়াক্কা না করে’ জ্যেষ্ঠতার ক্রমে ৭৮ নম্বরে থাকা একজন শিক্ষককে প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করায় সাধারণ শিক্ষকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন প্রতিষ্ঠানটির এমপিওভুক্ত (মান্থলি পে অর্ডার ভুক্ত) শিক্ষকরা।তাদের অভিযোগ, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের স্পষ্ট নির্দেশনা ও সরকারি বিধিমালা ‘উপেক্ষা করে অস্বচ্ছ ও প্রশ্নবিদ্ধ উপায়ে’ এবার শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। তারা জানান, প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমিক শাখায় ৪৭ জন এবং কলেজ শাখায় ২০ জনসহ মোট ৬৭ জন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন।এছাড়া, এমপিওভুক্ত নন এমন অনেক শিক্ষক রয়েছেন। শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়নে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মতামত, আপত্তি ও যৌক্তিক প্রত্যাশাকে ‘সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে’ জ্যেষ্ঠতার তালিকা ও নীতিমালার ‘লঙ্ঘন করা হয়েছে’।প্রতিষ্ঠানে কর্মরত একাধিক শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, অনেক জ্যেষ্ঠ, অভিজ্ঞ ও যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও ‘ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রভাব ও তদবিরের মাধ্যমে’ জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে ৭৮তম অবস্থানে থাকা একজন কনিষ্ঠ শিক্ষককে শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, মনোনয়নের জন্য অনলাইনে জমা দেওয়া আবেদনপত্রে প্রার্থীর বাধ্যতামূলক তথ্য যেমন- এমপিও নম্বর ও এমপিওভুক্তির সন ‘পূরণ করা হয়নি’। বিধি অনুযায়ী এসব তথ্য বাধ্যতামূলক হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে অসম্পূর্ণ আবেদন গ্রহণ ও অনুমোদন করা হলো, তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে একজন শিক্ষক শনিবার (১১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংবাদকে জানান, এ ধরনের পক্ষপাতিত্বের কারণে আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষক সমাজের মধ্যে ‘চরম বিভক্তি, আস্থাহীনতা ও ক্ষোভের’ সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানের সুশাসন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ ‘মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে’। অবিলম্বে প্রার্থীর যোগ্যতা, জ্যেষ্ঠতা এবং চাকরির রেকর্ড পুনর্মূল্যায়ন করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।আরেকজন শিক্ষক সংবাদকে বলেন, “শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়া উচিৎ এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের মধ্য থেকে। এর আগে ঢাকার আরেকটি স্কুলে নন-এমপিও শিক্ষককে প্রতিনিধি মনোনয়ন দেওয়া হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সেটি বাতিল করেছিল।”সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে শনিবার রাতে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান সংবাদকে জানান, এ বিষয়ে লিখিত কোনো অভিযোগ তিনি পাননি। অধ্যাপক আক্তারুজ্জামান বলেন, “যদি অভিযোগ কেউ করেও থাকেন, শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়নের বিষয়টি আসলে প্রতিষ্ঠান প্রধান এবং জেলা শিক্ষা অফিসারের এখতিয়ার। এখানে বোর্ডের কোনো ফাংশন নেই।”অ্যাডহক কমিটিতে শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়নের বিষয়ে এমপিও থাকার বাধ্যবাধকতা প্রসঙ্গে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান বলেন, “প্রবিধানমালায় আসলে স্পেসিফিকভাবে বলা নেই।” উল্লেখ্য, দেশের খ্যাতনামা এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে চলছে অনির্বাচিত কমিটি দিয়ে। প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও উঠেছে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।
রাজনীতি
মতিঝিল আইডিয়ালে শিক্ষক প্রতিনিধি মনোনয়নে ‘অনিয়ম’

শেয়ার করুন







