বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ-সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, গত এক বছরে সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ পাচার হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন মহলের আলোচনা অনুযায়ী দেশ থেকে প্রায় ৩০ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে। এ বিপুল পরিমাণ পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারকে বিশেষ ও কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একইসঙ্গে ব্যাংক লুটপাটে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং অবৈধভাবে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে রফিকুল ইসলাম খান এ কথা বলেন।
এবারের বাজেটকে ‘জনবান্ধব নয়’ এবং ‘গরিবের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টিকারী’ বলে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশনের কার্যকারিতা জোরদারে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ দিতে হবে। ব্যাংকিং খাতের নাজুক অবস্থার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী খেলাপি ঋণের পরিমাণ প্রায় ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে, যা মোট ঋণের প্রায় ৩২ শতাংশ। অথচ ২০০৯ সালের শুরুতে খেলাপি ঋণ ছিল মাত্র ২২ হাজার ৪৮১ কোটি টাকা। খেলাপি ঋণের লাগামহীন বৃদ্ধির কারণে দেশের ব্যাংকিং খাত আজ ঝুঁকিপূর্ণ। রফিকুল ইসলাম খান বলেন, শুধু ইসলামী ব্যাংক থেকে তারা ৮৬ হাজার কোটি টাকা লুটপাট করেছে। দুর্ভাগ্য, এ টাকা ফেরত আনতে সরকার ব্যবস্থা নেয়নি।
আরও বড় দুর্ভাগ্য একজন প্রভাবশালী মন্ত্রী এ ব্যাংক ডাকাত এস আলমের অবৈধভাবে নিয়োগ ১১ হাজারের বেশি কর্মচারীকে চাকরি ফেরত চেয়ে বক্তব্য দিয়েছিলেন। এতে বোঝা যায়, ব্যাংক ডাকাতের সঙ্গে ওই মন্ত্রীর যোগসূত্র থাকতে পারে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সব দিক দিয়ে দক্ষ। উনি সব মন্ত্রণালয়ে প্রক্সি দেন। কিন্তু উনি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ। লক্ষ্মীপুরের একই পরিবারের চারজন হত্যা এবং বিভিন্নস্থানে ধর্ষণের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানমালের কতটুকু নিরাপত্তা দিতে পারছে, তা বুঝতে পারছি না। মাদকের বিষয়ে তিনি বলেন, মাদক সরবরাহকারীদের আগে চিহ্নিত করা, দেশে মাদক ঢোকা বন্ধ করতে হবে। এটাও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ বাস্তবায়নের দাবি জানান রফিকুল ইসলাম খান।





