পদোন্নতির দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য আবার অবস্থান কর্মসূচিতে বসেছেন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতির আশ্বাস দিলেও তাঁদের সঙ্গে বৈষম্য ও প্রতারণা করা হচ্ছে। একাধিকবার বোর্ডের তারিখ ঘোষণা ও উপাচার্যের আশ্বাস সত্ত্বেও পদোন্নতি বোর্ড বসেনি। এতে তাঁরা অনিশ্চয়তা ও ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আজ সোমবার (২৯ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় সকাল ১০টা থেকে অবস্থান কর্মসূচিতে বসেন পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তারা। এর আগে গতকাল রোববার নির্ধারিত পদোন্নতি বোর্ড না বসায় উপাচার্যের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি উল্লেখ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন তাঁরা।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা বলেন, কয়েক দফা তারিখ নির্ধারণ করা হলেও পদোন্নতি বোর্ড বারবার স্থগিত হচ্ছে। ফলে পদোন্নতিপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে এবং কর্মকর্তারা বছরের পর বছর অপেক্ষায় রয়েছেন।
একাডেমিক শাখার সহকারী কম্পিউটার প্রোগ্রামার মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছি। যথাযথ নিয়মে আবেদন করেছি। কিন্তু দীর্ঘদিনেও আমাদের পদোন্নতির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার বোর্ড বসানোর ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে। এর আগে আমরা কর্মবিরতি পালন করেছিলাম। তখন উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের আশ্বাসে কর্মসূচি প্রত্যাহার করি। ২৮ জুন বোর্ড অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও সেটি হয়নি।’
গণিত বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘সর্বশেষ কর্মবিরতির পর ৯ জুন আমাদের বোর্ড অনুষ্ঠিত হবে বলে খুদেবার্তার মাধ্যমে জানানো হয়। পরে ১৬ জুন বোর্ডের তারিখ নির্ধারণ করা হলেও উপাচার্যের বিদেশ সফরের কারণে তা স্থগিত করা হয়। এরপর বলা হয়, তিনি বিদেশ থেকে ফিরে ২৮ জুন বোর্ড করবেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতিও বাস্তবায়ন হয়নি। এভাবে আমাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ ও হয়রানি করা হচ্ছে। এটি প্রতারণার শামিল।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বর্তমানে একটি সভায় রয়েছেন। পরে এ বিষয়ে কথা বলবেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। শুধু নিয়োগ নয়, পদোন্নতির ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।
তবে রেজিস্ট্রারের এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত নন আন্দোলনরত কর্মকর্তারা। তাঁদের দাবি, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা শুধু নতুন নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, পদোন্নতির ক্ষেত্রে নয়। পদোন্নতির ওপরও যদি নিষেধাজ্ঞা থেকে থাকে, তাহলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বারবার পদোন্নতি বোর্ডের তারিখ নির্ধারণ করে তাঁদের আশ্বাস কেন দিয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা।








