পলাশে অন্তঃসত্ত্বাকে নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে। আনোয়ারায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে দুজনের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া বাঘা, মধুপুর ও আদমদীঘিতে ৩ নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। যুগান্তর ব্যুরো ও প্রতিনিধিরা জানান : চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে এক নারী ও জেলের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতরা হলেন-উপজেলার বটতলী ইউনিয়নের পূর্ব বরইয়া এলাকার গৃহবধূ উম্মে হাবিবা (২২) এবং সদর ইউনিয়নের ঘনপুকুরপাড় এলাকার জেলে জিকু সরদার (৩৫)। জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যায় পূর্ব বরৈয়া এলাকা থেকে উম্মে হাবিবার লাশ উদ্ধার করা হয়। তিনি সায়েদ ইমরানের স্ত্রী ও এক কন্যাসন্তানের জননী ছিলেন। অন্যদিকে, শনিবার সকালে আনোয়ারা সদর ইউনিয়নের ঘনপুকুরপাড় এলাকায় একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় জেলে জিকু সরদারের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রীর বোনের স্বামীর সঙ্গে আর্থিক লেনদেন নিয়ে জিকু সরদারের বিরোধ ছিল। সেই লেনদেনের জেরে তাকে হত্যা করা হতে পারে। নরসিংদীর পলাশের ঘোড়াশালে স্বামীর বাড়ি থেকে সাইদা বিন দীপা (২৬) নামে অন্তঃসত্ত্বার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে ঘোড়াশাল পৌর এলাকার আটিয়াগাঁও গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত দীপা ওই এলাকার প্রবাসী শাকিল মিয়ার স্ত্রী। তার বাবার বাড়ি নরসিংদী সদরের আমদিয়া ইউনিয়নের ভূইয়ুম গ্রামে। তিনি ওই এলাকার মৃত নাজমুল কবির সিদ্দিকের মেয়ে। দীপার পরিবারের অভিযোগ, শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্যাতনে হত্যা করেছে। টাঙ্গাইলের মধুপুর পৌর শহরের উত্তর আবাসিক এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে লাভলী বেগম (৪০) নামে এক নারীর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার স্থানীয়রা ঘরের ভেতরে তাকে ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন। নিহত লাভলী গোবুদিয়া গ্রামের আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী। স্বামী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে পৌর শহরের উত্তর আবাসিক এলাকায় জনৈক ফারুকের বাসায় ভাড়া থাকতেন। তিনি বিভিন্ন সময় এলাকায় বিভিন্ন বাসাবাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করতেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে বাড়িতে নিয়ে যেতে চাইলেও তিনি সেখানে ফিরতে রাজি হতেন না। বগুড়ার আদমদীঘির সান্তাহারে নতুনবাজার এলাকায় সালমা বেগম (৬৫) নামে ভবঘুরে নারীর (৬৫) লাশ পাওয়া গেছে। শনিবার দুপুরে সান্তাহার টাউন ফাঁড়ির পুলিশ লাশটি উদ্ধার করেছে বলে জানান পরিদর্শক খন্দকার ফরিদ হোসেন। নিহত সালমা বেগম নোয়াখালী সদর উপজেলার আনন্দনগর এলাকার পণ্ডিত বেপারির মেয়ে। রাজশাহীর বাঘায় শরিফা খাতুন (৩৫) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে উপজেলার কিশোরপুর এলাকার একটি আমবাগান থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শরিফা খাতুন উপজেলার কিশরপুর গ্রামের আব্দুল আজিজের মেয়ে। জানা গেছে, শরিফা খাতুনের সঙ্গে ১৭ বছর আগে গাজীপুরের মোহাম্মদ রাব্বি হোসেনের বিয়ে হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় শরিফা খাতুন বাবার বাড়ি কিশরপুরে আসেন। শেষরাতে বাড়ির সামনে একটি আমগাছে তার লাশ ঝুলতে দেখেন পরিবারের লোকজন। পরে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। শনিবার সকালে পুলিশ হাসপাতাল থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। স্বামী মোহাম্মদ রাব্বি হোসেন বলেন, জমি কিনে বাড়ি করতে গিয়ে বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নেওয়া হয়েছে। ঋণের কিস্তির জন্য আমার স্ত্রী মানসিকভাবে উদ্বিগ্ন ছিল।