অভিনেত্রী হওয়ার ইচ্ছা কোনো দিনই ছিল না ইভা গ্রোভারের। ফ্যাশন ডিজাইনিং বিষয়ে ডিপ্লোমা করেছিলেন। তারপর হঠাৎ বিজ্ঞাপনে অভিনয়ের প্রস্তাব পান। উপার্জনের তাগিদে একের পর এক বিজ্ঞাপনে অভিনয় করতে শুরু করেন ইভা। সেখান থেকে বড়পর্দায়, পরবর্তীতে ছোটপর্দার অতি পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন। অভিনয়জীবনে সাফল্য পেলেও ব্যক্তিজীবন ছিল বেদনাময়। কিছু দিন আগে ভিকি লালওয়ানির পডকাস্টে সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা জানান এই অভিনেত্রী।

বলিউডের ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’ আমির খানের সৎভাই হায়দার আলী খানের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন ইভা। তখন তার বয়স ২৭ বছর। শখের বশে অভিনয়ে পা রাখলেও কম সময়ের মধ্যে পরিচিতি লাভ করেন। কিন্তু বিয়ে-স্বামী-সংসারে স্বপ্নের পিছনে ছুটতে গিয়ে নিজের বিপদ নিজেই ডেকে আনেন এই অভিনেত্রী। পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইভা গ্রোভার জানান, হায়দারের সঙ্গে মাত্র ১৮ দিনের প্রেম ছিল ইভার। কয়েক দিন ডেট করার পর তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন হায়দার। তখন আমিরের সৎভাইয়ের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছিলেন ইভা। তাকে বিয়ে করতে রাজিও হয়ে যান তিনি। ইভার বাবা মারা যাওয়ায়, মাকে নিয়েই ছিল তার সংসার। কিন্তু হায়দারের সঙ্গে বিয়েতে সম্মতি দেননি ইভার মা।

হায়দার ভিন্ন ধর্মাবলম্বী হওয়ার কারণে আপত্তি জানান ইভার মা। অন্যদিকে, ইভার ঘনিষ্ঠরা সেই বিয়েতে মত দেননি। এত অল্প দিনের আলাপে বিয়ের সিদ্ধান্ত নিতে বারণ করেন তারা। কিন্তু ইভার চোখে তখন সুখের সংসারের রঙিন স্বপ্ন। হায়দারের সঙ্গে তার সম্পর্কের বয়স ছিল মাত্র ১৯ দিন। সেই দিনই দু’জনে পালিয়ে বিয়ে করেন। বিয়ের চারদিনের মাথায় ইভার সব স্বপ্ন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। স্মৃতিচারণ করে ইভা গ্রোভার বলেন, “আমার বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য ছিল না। তাই পরিবারে কোনো পুরুষকে দেখিনি। হায়দারকে বিয়ে করার পর বুঝতে পারলাম, পুরুষদের কত আগ্রাসন থাকে। কিন্তু এই মানুষটার সঙ্গে আমি সম্পর্কে ছিলাম না। বিয়ের পর দেখি, ও একেবারেই অন্য মানুষ।”

হায়দারের আচরণ ব্যাখ্যা করে ইভা গ্রোভার জানান, ছোটখাটো বিষয়েও মেজাজ হারিয়ে ফেলতেন হায়দার। প্রচণ্ড রাগারাগি করতেন। এমনকি, শারীরিক নির্যাতনও করতেন। তবুও মুখ বুজে সব সহ্য করেছেন ইভা। আমিরের বাবা এবং হায়দারের সৎবাবা তাহির হুসেন বহুবার হায়দারকে তার রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে বলেছিলেন। কিন্তু কারো কথা শুনতেন না হায়দার। হায়দারের সঙ্গে সংসার করার অনেক চেষ্টা করেছেন ইভা। এজন্য স্বামীর অত্যাচারও সহ্য করেছেন। এ বিষয়ে ইভা গ্রোভার বলেন, “দিনের পর দিন আমি হায়দারের অত্যাচার সহ্য করেছি। প্রত্যেক নারীই ভাবেন, ‘সন্তান এলে সব ঠিক হয়ে যাবে, স্বামীর মন ফিরে পাওয়া যাবে, সংসারে শান্তি আসবে’। আমিও তাই ভেবেছিলাম। বিয়ের তিন-চার বছর পর সন্তানধারণের সিদ্ধান্ত নিই। এতে হায়দারেরও অমত ছিল না। কিন্তু পরিস্থিতি কিছুই বদলায়নি।”

২০০৯ সালে ‘দিল তো দিওয়ানা হ্যায়’ সিনেমার মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন হায়দার আলী। কিন্তু প্রথম সিনেমা মুক্তির পরই ইন্ডাস্ট্রি থেকে হারিয়ে যান। অন্যদিকে, সংসারের খরচ চালাতে অন্তঃসত্ত্বা ইভা শুটিং চালিয়ে যান। ইভার চোখেমুখেও শারীরিক, মানসিক নির্যাতনের ছাপ ছিল। তাকে এমন শোচনীয় অবস্থায় দেখে সহযোগিতার হাত বাড়ান টিভি সিরিয়ালের সহশিল্পীরা। ইভার সহকর্মীরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ইভার মায়ের সঙ্গে দেখা করবেন। কিন্তু ইভার মা জেদ ধরেছিলেন, মেয়ে যখন তার কথা অমান্য করে পালিয়ে গিয়েছে, তখন আর তাকে ফেরাবেন না। কিন্তু সহকর্মীদের অনুরোধে মন গলে ইভার মায়ের। মেয়ের দুঃখ-কষ্ট সহ্য করতে পারছিলেন না তিনি। পরে এক মাসের কন্যাসন্তানকে নিয়ে হায়দারের সংসার ছেছেড়ে বেরিয়ে যান ইভা।

২০০৮ সালের এপ্রিলে বিবাহবিচ্ছেদ হয় যায় ইভা-হায়দারের। তাদের কন্যার দায়িত্ব নেন হায়দারের বোন। ইভার সঙ্গে তার সন্তানের নিয়মিত দেখাসাক্ষাৎ হলেও হায়দার তাদের সঙ্গে কোনোরকম যোগাযোগ রাখেননি বলে দাবি ইভার। বিবাহবিচ্ছেদের পর নানারকম চড়াই-উতরাইয়র মধ্যে দিন কাটাতে হয় ইভাকে। হায়দারের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর একাধিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন ইভা। কিন্তু কোনো সম্পর্কই সুখকর হয়নি। বারবার ইভার মন ভেঙেছে। টিভি ধারাবাহিকে কাজ করাকালীন অবসাদে ভুগতে শুরু করেন তিনি। তার প্রভাব পড়েছিল ইভার স্বাস্থ্যের ওপরে। তাই অভিনয় থেকে সাময়িক বিরতি নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এই অভিনেত্রী। এরপর আর অভিনয়ে ফেরা হয়নি ইভার।

জ্যোতিষবিদ্যা, সংখ্যাতত্ত্ব চর্চা করে আপাতত অবসর কাটছে ইভার। তবে অভিনয়ে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এ কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে সক্রিয় হয়েছেন এই অভিনেত্রী।