পঞ্চাশ বছরের কষ্টে উপার্জিত সম্পদ ৫০ মিনিটেই শেষ। জমি, বাড়িভিটা, সবজি ও পাট খেত গাছ-গাছালি সব মুহূর্তেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেল চোখের সামনে। তার পরও দেখা মিললনা কোনো চেয়ারম্যান, মেম্বর অথবা কোনো এমপির। গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক ও পাউবোর কর্মকর্তার আশ্বাসের পরও শুরু হলো না ভাঙন রোধের কাজ। ঘরবাড়ি হাড়িয়ে নিঃস্ব হওয়া কৃষক নজির উদ্দিন আক্ষেপ করে শনিবার বিকালে এই কথাগুলো বলছিলেন।

গাইবান্ধা জেলার ফুলছড়ি উপজেলার দক্ষিণ কঞ্চিপাড়া গ্রামে শনিবার দিনভর হঠাৎ করেই শুরু হয় ভয়াবহ ভাঙন। ভাঙনে এই গ্রামের কৃষক নজির উদ্দিন তার ভিটার শেষ গাছটি কাটতে গিয়ে একথা বলছিলেন। শুধু তাই নয় শনিবার বিকালের ব্রহ্মপুত্র ও যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনে আশপাশের অন্তত ২০টি পরিবারের জমি, বাড়িভিটা, গাছ,আবাদি জমি কিছুক্ষণের মধ্যে পরিবারের লোকজনের সামনেই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। এসময় নদী তীরে নারী-পুরুষের কান্নায় পরিবেশ অন্যরকম হয়ে ওঠে। কেউ সাংবাদিক দেখে তেড়ে আসেন ,আবার কেউ আক্ষেপ করে বলেন, ডিসি সাহেব দেখে গেলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলীর আশ্বাশের তিন দিনেও কিছু হলো না। তারপরও নিঃস্ব হয়ে গেল কয়েকটি পরিবার। ভাঙনের কথা স্বীকার করে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, অনেক জায়গায় ভাঙন প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। শনিবার বিকাল থেকে হঠাৎ করে ভয়াবহ ভাঙন শুরু হয়। ভাঙনে নদী তীরে শ শ নারী-পুরুষ ও আশপাশের লোকজন জড়ো হয়ে আল্লাহকে ডাকতে শুরু করেন। কিন্তু ইতোমধ্যে নদী ভাঙনে এলাকার ঘরবাড়ি সরিয়ে নেওয়ার সময় পায়নি অনেকেই। এলাকার মানুষের বুকফাটা কান্না আর আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মুহূর্তেই বিঘার বিঘা জমি গাছপালা, আবাদি জমি ও বাড়িভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

এ ব্যাপারে গাইবান্ধার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসরাম জানান, ভাঙন রোধে ঠিকাদার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আগামীকাল থেকে ওই এলাকার ভাঙন রোধে কাজ শুরু করা হবে। গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা জানান, তিনি ওই এলাকা পরিদর্শন করে বাস্তব চিত্র দেখেছেন। ভাঙগন রোধে তিনি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জরুরি পদক্ষেপ নিতে বলেছেন।