ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে এক নাবালিকাকে ধর্ষণ ও খুনের মামলায় গ্রেপ্তার প্রধান অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।
পুলিশের দাবি, গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাতে তদন্তের স্বার্থে অপরাধের ঘটনার পুনর্নির্মাণ (ক্রাইম সিন রিকনস্ট্রাকশন) করতে নিয়ে যাওয়া হলে পুলিশের অস্ত্র কেড়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন প্রভাস। সে সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালানো হয়। পরে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
তবে এই কথিত ‘এনকাউন্টার’ বা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনাটি নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
বারুইপুর থানা-পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, মঙ্গলবার দিবাগত রাত পৌনে ১টা নাগাদ তদন্তের প্রয়োজনে প্রভাসকে সূর্যপুরের ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সঙ্গে পুলিশের একটি বিশেষ দল ছিল।
পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অভিযুক্ত প্রভাস হঠাৎই এক পুলিশ কর্মকর্তার কাছ থেকে পিস্তল ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা তাঁকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে এক রাউন্ড গুলি ছোড়েন।
আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। পুলিশের ছোড়া গুলিতে প্রভাস গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ওই অবস্থায় তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে বারুইপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
গত রোববার সকালে বারুইপুরের সূর্যপুর এলাকার একটি পুকুর থেকে নিখোঁজ ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাকে নৃশংসভাবে ধর্ষণ ও খুন করা হয়েছে—এমন অভিযোগ ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো এলাকায় তীব্র জনরোষ তৈরি হয়।
দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দারা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। ওই দিনই স্থানীয় বাসিন্দারা প্রভাস মণ্ডলকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটকে মারধর করে এবং পরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এই ঘটনায় প্রভাসই ছিলেন প্রথম গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তি।
স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, গত শনিবার বিকেলে নিখোঁজ হওয়ার আগে ওই কিশোরীকে প্রভাসের সঙ্গেই শেষবারের মতো দেখা গিয়েছিল। তদন্তে নেমে পুলিশও স্থানীয় কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে, যেখানে নাবালিকার সঙ্গে এক যুবককে হেঁটে যেতে দেখা যায়। পুলিশ পরে নিশ্চিত করে যে ওই যুবকটিই প্রভাস মণ্ডল।
তবে পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারের পর থেকেই জিজ্ঞাসাবাদে কোনো রকম সহযোগিতা করছিলেন না প্রভাস। তদন্তকারীদের বিভ্রান্ত করতে তিনি ক্রমাগত মিথ্যা ও অসংলগ্ন তথ্য দিচ্ছিলেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের একাংশের মতে, ঘটনার দিন ঠিক কী ঘটেছিল এবং প্রভাসের প্রকৃত ভূমিকা কী ছিল, তা স্পষ্ট করতেই মঙ্গলবার মধ্যরাতে তাঁকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই পুনর্নির্মাণ প্রক্রিয়ার মাঝেই এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বিভাগীয় তদন্ত বা বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করা হয়নি।








