ফতুল্লায় মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে ৩ শ্রমিককে রাস্তা থেকে ধরে নিয়ে যায় ব্ল্যাকমেইল চক্রের সদস্যরা। এরপর তাদের টর্চার সেলে নিয়ে সারারাত নির্যাতন করে ভোরে দেড় লাখ টাকা রেখে মুক্তি দেওয়া হয়। শনিবার অভিযোগ পেয়ে ফতুল্লার শাসনগাঁও বিসিক এলাকায় চক্রের টর্চার সেলে অভিযান চালায় পুলিশ। সেখান থেকে ওই চক্রের সদস্য আলমকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিসিকে বিভিন্ন গার্মেন্টসে লোড আনলোডের কাজ করেন ফুল মিয়া সর্দার। তার ভাতিজা রুহুল আমিনও তার সঙ্গে একই কাজ করেন। শুক্রবার রাত ৩টায় তার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রাম থেকে ঋণ পরিশোধের জন্য এক লাখ ৩০ হাজার টাকা নিয়ে ফতুল্লার বিসিকে আসেন। এ সময় তাকে তার ভাতিজা রুহুল আমিন ও আরেকজন সহকর্মী বাসায় নিতে আসেন। এর মধ্যে পথরোধ করে দাঁড়ায় বিসিকের ব্ল্যাকমেইল চক্রের রুবেল, বাচ্চু ও মঞ্জুসহ ৭-৮ জন। এরপর তাদের টর্চার সেলে নিয়ে মারধর করে হাতে ইয়াবা দিয়ে ভিডিও করে। তখন মাদক ব্যবসায়ী আখ্যা দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। নয়তো তাদের পুলিশে দেওয়া হবে। তখন ফুল মিয়া সরদার তার কাছে থাকা এক লাখ ৩০ হাজার টাকা দিয়ে দেন। তারপর ভাতিজা রুহুল আমিনের কাছ থেকে এটিএম কার্ডের মাধ্যমে আরও ৩০ হাজার টাকা উঠিয়ে নিয়ে তিনজনকে মুক্তি দেয়। এরপর ফুল মিয়া সরদার শনিবার দুপুরে গিয়ে ফতুল্লা থানায় অভিযোগ করেন।

স্থানীয়রা জানান, বিসিক শাসনগাঁও এলাকায় থানা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল মাহমুদের অফিসের পাশে একটি আধাপাকা ঘরে টর্চার সেল তৈরি করেন স্থানীয় সন্ত্রাসী বাচ্চু। মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে এ টর্চার সেলে শ্রমিকদের ধরে আনতেন বাচ্চু ও তার বাহিনীর সদস্যরা। এ বাহিনীতে রয়েছে রুবেল, আলম ও মঞ্জুসহ ৩০-৪০ জন। জুলাই আন্দোলনের পর থেকেই তারা বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

এ বিষয়ে ফতুল্লা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুব আলম জানান, একজন শ্রমিকের অভিযোগে বাচ্চু বাহিনীর টর্চার সেলে অভিযান চালানো হয়েছে। সেখান থেকে একজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।