ফেনীর পরশুরাম সীমান্ত দিয়ে সাতজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা চালিয়েছে বিএসএফ। তবে বিজিবির তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও কঠোর অবস্থানের মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
শনিবার (২৫ জুলাই) ভোর সাড়ে চারটার দিকে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি)-এর অধীন শ্রীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ২১৪৫-এর নিকটবর্তী দুর্গাপুর সীমান্ত এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে ভারতের ৪৩ রাজনগর বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহল দল সাতজন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। যাদের মধ্যে ছয়জন নারী এবং একজন ছেলেশিশু রয়েছে। বিষয়টি সীমান্তে টহলরত বিজিবি সদস্যদের নজরে এলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কৌশলগত অবস্থান নেন এবং অনুপ্রবেশে বাধা দেন। বিজিবির কঠোর ও সুদৃঢ় অবস্থানের কারণে বিএসএফ সদস্যরা ওই সাতজনকে নিয়ে পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যেতে বাধ্য হন।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে বিজিবি জানিয়েছে, পুশ-ইনের শিকার হওয়ার উপক্রম হওয়া ওই সাতজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তারা সবাই ভারতীয় নাগরিক। ঘটনা চলাকালীন কাউকে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে বিজিবি ফেনী ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এম জিল্লুর রহমান সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী জোরপূর্বক বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তা প্রতিহত করেন।’
অধিনায়ক আরও বলেন, ‘অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশ-ইন কিংবা সীমান্ত আইন লঙ্ঘনের চেষ্টা প্রতিহত করতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে পুশ-ইনের নানা অভিযোগ সামনে এসেছে। এসব নিয়ে সীমান্তে যখন নতুন করে আলোচনা-সমালোচনা চলছে, তখন বিজিবি স্পষ্ট করেছে যে, তারা আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন এবং বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/কেজে/এএসএম








