ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ইউরোপের অসন্তোষ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি) জানিয়ে দিয়েছে, তারা ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে সমর্থনপত্রে সই করবে না। এর ফলে ২০২৭ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনের আগে ইনফান্তিনোর অবস্থান নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের ১৮ মার্চ মরক্কোর রাবাতে অনুষ্ঠিতব্য ফিফা কংগ্রেসে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের জন্য ইউরোপের ১৬টি দেশের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছিল। তবে ডিএফবির সভাপতি বের্ন্ড নয়েনডর্ফ সেই চিঠিতে সই করতে অস্বীকৃতি জানান।
এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ডিএফবি বলেছে, ‘জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের সমর্থনে ডিএফবি কোনো চিঠিতে সই করেনি। পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ডিএফবির প্রেসিডিয়াম আলোচনা করবে।’
ইউএসএ ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগুনকে ঘিরে সাম্প্রতিক বিতর্কে ফিফা ও উয়েফার সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়েছে। বিশ্বকাপে লাল কার্ড পাওয়ার পরও বালোগুনের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে তাকে বেলজিয়ামের বিপক্ষে খেলার অনুমতি দেয় ফিফার শৃঙ্খলা কমিটি। অভিযোগ ওঠে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইনফান্তিনোর কাছে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ করার পরই এই সিদ্ধান্ত আসে। যদিও ফিফা ও ইনফান্তিনো দাবি করেছে, সিদ্ধান্তে কোনো রাজনৈতিক প্রভাব ছিল না।
ডিএফবি সভাপতি বের্ন্ড নয়েনডর্ফ এ বিষয়ে বলেন, ‘এই প্রক্রিয়াকে কোনোভাবেই ধামাচাপা দিয়ে শেষ করা উচিত নয়।’
উয়েফাও এই ঘটনাকে কঠোর ভাষায় সমালোচনা করে জানিয়েছে, এতে ফুটবল প্রশাসনের একটি ‘রেড লাইন অতিক্রম করা হয়েছে।’
ইতোমধ্যে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির (আইওসি) নৈতিকতা কমিশনেও রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা লঙ্ঘনের অভিযোগ জমা পড়েছে। একই সঙ্গে ইউরোপের কয়েকটি ফুটবল ফেডারেশন তার নেতৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তুলছে। যদিও আফ্রিকা, এশিয়া ও কনকাকাফ অঞ্চলে এখনও তার উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে, তবু ইউরোপের এই বিরোধিতা আগামী বছরের ফিফা সভাপতি নির্বাচনকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করে তুলতে পারে।
টিটিটি/আইএন








