৪১-এ বেশির ভাগ ফুটবলারের ক্যারিয়ারে সন্ধ্যা নেমে আসে। ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ব্যতিক্রম। প্রচলিত ধারণা ভুল প্রমাণ করে চলেছেন সিআর সেভেন। ২০২৬ বিশ্বকাপেও পর্তুগালের জার্সিতে তিনি আগের মতোই ক্ষুধার্ত, ফিট এবং গোল করতে অবিচল। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, এই বয়সেও কীভাবে বিশ্বের সেরাদের সঙ্গে সমান তালে তিনি লড়াই করে যাচ্ছেন? এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে তার কঠোর শৃঙ্খলা, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত অনুশীলন এবং পুনর্বাসন পদ্ধতিতে। রোনাল্ডোর জীবনে আপসের কোনো জায়গা নেই। কোমল পানীয়, জাঙ্ক ফুড কিংবা প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চলেন। সকালের খাবারে থাকে হ্যাম, চিজ, দই এবং তাজা ফলের রস। দিনে তিনবার ভারী খাবারের বদলে তিনি পাঁচ থেকে ছয়বার অল্প অল্প করে খান, যাতে শরীর সারাক্ষণ প্রয়োজনীয় শক্তি পায় এবং বিপাকক্রিয়া সক্রিয় থাকে। তার খাদ্যতালিকায় বিশেষ গুরুত্ব পায় হাই প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট। কড, টুনা ও সোর্ডফিশের মতো মাছের পাশাপাশি থাকে চিকেন, অ্যাভোকাডো, তাজা ফল, সবজি এবং ব্ল্যাক বা রেড রাইস। দীর্ঘদিন ধরে এই সুষম খাদ্যাভ্যাসই তার অসাধারণ ফিটনেস ধরে রাখার অন্যতম ভিত্তি। অনুশীলনেও রোনাল্ডো কঠোর। জিমের পাশাপাশি নিয়মিত স্প্রিন্ট, অ্যাজিলিটি ড্রিল এবং বিশেষ অনুশীলন করেন। কোর মাসল শক্তিশালী রাখতে প্ল্যাঙ্ক, ক্রাঞ্চ, লেগ রেইজের মতো ব্যায়াম তার রোজকার রুটিনের অংশ। প্রতিটি সেশনের আগে ও পরে স্ট্রেচিং করে তিনি চোটের ঝুঁকি কমিয়ে রাখেন। রোনাল্ডোর মতে, কঠোর অনুশীলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যাপ্ত বিশ্রাম। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি দীর্ঘ সময় একটানা ঘুমানোর বদলে দিনের বিভিন্ন সময়ে কয়েক দফায় স্বল্প সময়ের জন্য ঘুমান। পাশাপাশি আইস বাথ, ক্রায়োথেরাপি এবং নিয়মিত ম্যাসাজের মাধ্যমে শরীরের ক্লান্তি দূর করেন।




