ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ডিমবাহী পিকআপ উলটে সড়কে ছড়িয়ে পড়ে ডিম। সেই ডিম কুড়াতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় দ্রুতগতির একটি বাস তাদের পিষে চলে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ৫ জন। এ সময় আরও ৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সুয়াদী বাসস্ট্যান্ডে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে উত্তেজিত জনতা চারটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন এবং ৩০-৪০টি যানবাহন ভাঙচুর করেন।
নিহতরা হলেন-ভাঙ্গা উপজেলার আলগী ইউনিয়নের সুয়াদী এলাকায় বাবলু মাতুব্বরের ছেলে আরিফ মাতুব্বর (২৫), আবু সেকের ছেলে ওবায়দুল সেক (৪০), লিটন মিয়ার ছেলে জয়নাল মিয়া (২৪), তুহিন সেকের ছেলে নুরুননবী সেক (১২) ও কুদ্দুসের ছেলে হাফিজুর (৫০)। ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ডিমবাহী পিকআপটি ঢাকা থেকে খুলনার দিকে যাচ্ছিল। সুয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এসে চাকা ফেটে গেলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এটি উলটে পড়ে। ডিম সড়কের ওপর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা তা কুড়াতে এগিয়ে আসেন। এ সময় তাদের চাপা দিয়ে চলে যায় ঢাকা থেকে নড়াইলগামী নড়াইল এক্সপ্রেসের একটি বাস। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন নিহত হন, আহত হন অন্তত ৫ জন। খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা দ্রুত সেখানে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। আহতদের ভাঙ্গা হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন ম্যানেজার আবু জাফর বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গাড়িতে দেওয়া আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করি।
এদিকে দুর্ঘটনার পর উত্তেজিত জনতা ৩০-৪০টি যানবাহন ভাঙচুর করে এবং চারটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে সড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহণের শ্রমিকরা। রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সড়ক থেকে সরাতে পারেনি পুলিশ।








