ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার সেনগাঁও ইউনিয়নের ফকিরগঞ্জ বাজারে শতবর্ষী একটি মরা শিমুল গাছ এখন জননিরাপত্তার জন্য বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায়ই শুকনা ডালপালা ভেঙে পড়ছে, অথচ দাঁড়িয়ে থাকা গাছটি অপসারণে এখনো নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো উদ্যোগ। এতে বাজারের ব্যবসায়ী, পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং পাশের বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে আতঙ্ক।

আজ বুধবার সরেজমিনে দেখা যায়, গুরুত্বপূর্ণ এ বাজারটির পাশে শতবর্ষী একটি মরা শিমুল গাছ দাঁড়িয়ে আছে। এই সড়ক দিয়ে হরিপুর, রানীশংকৈল ও পীরগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। এ ছাড়া গাছটির কাছেই রয়েছে উপদইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ফকিরগঞ্জ বিজিবি (বিওপি) ক্যাম্প। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পথচারী ও কোমলমতি শিক্ষার্থী গাছটির পাশ দিয়ে চলাচল করে।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে গাছটি মৃত অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। ইতিমধ্যে এর বেশ কিছু ডাল ভেঙে পড়েছে। যেকোনো সময় বড় ডাল কিংবা পুরো গাছটি ভেঙে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সেনগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম প্রধান বলেন, ‘গাছটি দ্রুত কাটার ব্যবস্থা না করলে যেকোনো সময় বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। কর্তৃপক্ষের কাছে গাছটি অপসারণের দাবি জানাচ্ছি।’

স্থানীয় দোকানদার আফাজ আলী বলেন, ‘গাছটি মরে গেছে, এখনই কাটা দরকার। দুর্ঘটনার পর ব্যবস্থা নেওয়ার কোনো মানে হয় না।’

পশু চিকিৎসক এনামুল হক বলেন, গাছটি দ্রুত কাটার ব্যবস্থা না করলে পথচারী কিংবা শিক্ষার্থী যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারে।

ফরিদ হোসেন মাসুম নামের একজন বলেন, ‘যেভাবে গাছের ডাল ভেঙে পড়ছে, তাতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে বেশি সময় নেই। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

স্থানীয় বাসিন্দা আমিনুল হক বলেন, ‘বাজারে এলেই আতঙ্কের মধ্যে থাকি। কখন যে ডাল বা পুরো গাছই ভেঙে পড়ে, সেই ভয়ে থাকি।’

পথচারী হায়দার আলী বলেন, ‘বাজারে এসে বাজার করার চেয়ে এখন ভয় হয় কখন গাছটি আমার ওপর ভেঙে পড়ে।’

পীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, ‘শতবর্ষী শিমুল গাছটির বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। গাছটি বর্তমানে জননিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ কি না, সরেজমিনে পরিদর্শন করে দেখা হবে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’