এমকে হক, জার্মানি
জার্মানিতে জীবনযাত্রার খরচ দিন দিন বাড়ছে। তবে একটু বুদ্ধি খাঁটিয়ে চললে জীবনযাত্রার মান ঠিক রেখেও প্রতি মাসে বেশ ভালো পরিমাণ অর্থ সঞ্চয় করা সম্ভব। কিছু বাস্তবমুখী পরামর্শ তুলে ধরা হলো।
সস্তা সুপারশপ নির্বাচন
অনেকেই না বুঝে দামি দোকান থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনেন। সবসময় চেষ্টা করবেন লিডল, আলডি, নেট্টো বা পেনির মতো সস্তা দোকানগুলো থেকে বাজার করতে। নামি ও দামি বিপণিবিতানগুলোর তুলনায় এই দোকানগুলোতে একই মানের জিনিস ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ কম দামে পাওয়া যায়।
বোতল ফেরত দিয়ে টাকা আদায়
জার্মানিতে প্লাস্টিক বা কাঁচের বোতলের গায়ে ‘ফান্ড’ বা বোতলের ফেরত মূল্যের লোগো থাকে। পানি বা কোমল পানীয় কিনে বোতলগুলো ফেলে দেবেন না। প্রতিটা বোতলের জন্য ০.২৫ ইউরো পর্যন্ত ফেরত পাওয়া যায়। মাস শেষে এই বোতলগুলো দোকানের স্বয়ংক্রিয় মেশিনে জমা দিলে অনায়াসে ১০ থেকে ১৫ ইউরোর সমপরিমাণ কুপন চলে আসে, যা দিয়ে পরের বার বাজার করা যায়!
ব্যবহৃত জিনিসপত্র ব্যবহারের সংস্কৃতি
নতুন বাসা নেওয়ার পর আসবাবপত্র বা বৈদ্যুতিক সামগ্রী একদম নতুন কিনতে যাবেন না। জার্মানির মানুষ ক্লাইনআনৎসাইগেন নামের একটি অ্যাপে খুব ভালো অবস্থার জিনিসপত্র অর্ধেক বা তারও কম দামে বিক্রি করে দেয়। এমনকি অনেক সময় অনেকে বিনামূল্যেও দিয়ে দেয়! একটু খুঁজে দেখলে চমৎকার সব জিনিস নামমাত্র মূল্যে পাওয়া সম্ভব।
৬৩ ইউরোর সর্বজনীন টিকিট
আপনি যদি নিয়মিত যাতায়াত করেন, তবে আলাদা টিকিট না কেটে দোয়েচলান্ড-টিকিট নিয়ে নিন। মাত্র ৬৩ ইউরোতে পুরো জার্মানির যে কোনো আঞ্চলিক বাস, ট্রেন বা ট্রাম আনলিমিটেড ব্যবহার করতে পারবেন। এটি দূরপাল্লার দ্রুতগামী ট্রেন ছাড়া সব লোকাল পরিবহনে যাতায়াতের খরচ অবিশ্বাস্য রকমের কমিয়ে দেয়।
রান্না করার অভ্যাস এবং দুপুরের খাবার বাঁচানো
বাইরে খাওয়ার খরচ জার্মানিতে অনেক বেশি। প্রতিদিন অফিসে বা কর্মক্ষেত্রে বাইরে দুপুরের খাবার না খেয়ে, আগের রাতে বা সকালে নিজে রান্না করে খাবার সাথে নিয়ে যাওয়ার অভ্যাস করুন। এতে স্বাস্থ্যও ভালো থাকবে এবং মাসে অন্তত ১০০ থেকে ১৫০ ইউরো অনায়াসে বেঁচে যাবে।
বার্ষিক কর ফেরত বা ট্যাক্স রিটার্ন
অনেকে অলসতা করে বছরের শেষে কর রিটার্ন জমা দেন না। কিন্তু চাকরিজীবী হিসেবে আপনি পেশাগত কাজে যা খরচ করেছেন (যেমন: যাতায়াত খরচ, কাজের জন্য কেনা কম্পিউটার বা বইপত্র, এমনকি বাসা পরিবর্তনের খরচ) তার একটি বড় অংশ কর রেয়াত হিসেবে ফেরত পাওয়া যায়। সঠিক সময়ে করের হিসাব জমা দিলে বছরে বেশ ভালো অঙ্কের টাকা একবারে হাতে চলে আসে।
ব্যাংক হিসাব ও বীমা পরিবর্তন
জার্মানিতে অনেক ব্যাংক বা বীমা প্রতিষ্ঠান প্রতি মাসে নির্দিষ্ট পরিমাণ ফি কাটে। বাজারে অনেক নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল ব্যাংক আছে যেগুলো কোনো মাসিক ফি ছাড়াই সেবা দেয়। এছাড়া প্রতি বছর গাড়ি, স্বাস্থ্য বা ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতার বীমাগুলো তুলনা করে দেখলে অনেক কম খরচে একই সুবিধা পাওয়া যায়। পুরনো চুক্তিগুলো অন্ধের মতো চালিয়ে না গিয়ে মাঝে মাঝে যাচাই করা বুদ্ধিমানের কাজ।
ছোট ছোট এই জীবনযাত্রার পরিবর্তনগুলো প্রবাস জীবনকে অনেক সহজ এবং সাশ্রয়ী করে তুলবে।
এমআরএম






