ফরিদপুরের নগরকান্দায় ইতালি প্রবাসী এক ব্যক্তির বসতবাড়িতে জোরপূর্বক প্রবেশ, ভাঙচুর, বাড়ি দখল করে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া এবং বৃদ্ধ মাকে ঘর থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদি ইউনিয়নে পৌলানপুটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ তালা খুলে বাড়িটি পরিবারের জিম্মায় বুঝিয়ে দেয়।

সূত্র জানায়, ইতালি প্রবাসী জাহিদ শেখের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কাসালিয়া গ্রামের শাহিদুল মল্লিকের ছেলে নাসিম মল্লিকের বিদেশে পাঠানোকে কেন্দ্র করে আর্থিক লেনদেন হয়। নাসিম মল্লিকের দাবি, ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে জাহিদ শেখ চুক্তিপত্রের মাধ্যমে তার কাছ থেকে ১২ লাখ টাকা নেন। পরে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হলেও দীর্ঘদিন টাকা ফেরত দেননি। এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠক হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি তার।

এদিকে জাহিদ শেখের পরিবারের অভিযোগ, ওই বিরোধের জেরে শুক্রবার নাসিম মল্লিক দলবল নিয়ে তাদের বাড়িতে এসে সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেন। এরপর জাহিদের মা দুলু বেগমকে জোরপূর্বক ঘর থেকে বের করে দিয়ে বাড়ির বিভিন্ন কক্ষে একাধিক তালা ঝুলিয়ে দেন। এ সময় তাকে মারধর, গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জাহিদ শেখের মা দুলু বেগম বলেন, ওরা দলবল নিয়ে এসে ঘর থেকে আমাকে বের করে দেয়। এসময় মারধর ও হত্যার হুমকি দেয়। এরপর ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়। বিষয়টি আমি আমার ছেলেকে জানাই। পরে সে পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে তালা খুলে দেয়।

ইতালি থেকে মুঠোফোনে জাহিদ শেখ বলেন, নাসিমের কাছ থেকে বিদেশে পাঠানোর জন্য টাকা নিয়েছিলাম। তাকে পাঠাতে না পারায় টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি ছিল। কিন্তু সেই সুযোগ না দিয়ে তারা বসতবাড়ি দখলের চেষ্টা করেছে, সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করেছে এবং মায়ের ওপর নির্যাতন চালিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

অভিযুক্ত নাসিম মল্লিক বসতবাড়ি দখলের অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, বিদেশে পাঠানোর জন্য টাকা দিয়েছিলাম। কথা ছিল বিদেশে পাঠাতে না পারলে বাড়ি দিয়ে দেবে। সেই কারণে বাড়িতে গিয়ে তালা ঝুলিয়েছি। তবে আদালতের আদেশ বা আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া এভাবে বাড়ি দখল করা বৈধ কি না, এ প্রশ্নের সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি তিনি।

খবর পেয়ে নগরকান্দা থানার এসআই আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে তালা খুলে বাড়িটি পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়।

নগরকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাসুল সামদানী আজাদ বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ পাঠানো হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এন কে বি নয়ন/এসজেডএইচ/জেআইএম