সরকারি ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর বিশেষ নির্দেশনায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট-পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজটি বাতিল করা হয়েছে। সরকারের এই সাশ্রয়ী সিদ্ধান্তের ফলে রাষ্ট্রীয় তহবিলের প্রায় ৫০ লাখ টাকা বেঁচে গেছে।গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) রাতে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।প্রতিবছর বাজেট পাসের দিন রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই নৈশভোজের আয়োজন করা হতো। জমকালো এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্যসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নিতেন।অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন: "মূলত অপচয় রোধ ও সরকারি ব্যয় কমানোর বিষয়টি সর্বোচ্চ বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই এবার বাজেট-পরবর্তী ঐতিহ্যবাহী নৈশভোজের আয়োজন করা হয়নি।"প্রেসসচিব বিগত সরকারের সময়ের আপ্যায়ন খাতের খরচের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরেন। তিনি জানান: বিগত সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতেই প্রতিবছর গড়ে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হতো।এর বাইরেও প্রতিবছর আরও ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে শুধু এই আপ্যায়ন খাতেই সরকারের খরচ হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের এই খাবার সরবরাহ করত। তবে বিগত সরকারের আমলের সেই বিপুল অঙ্কের বিলের একটি বড় অংশ এখনো বকেয়া রয়ে গেছে, যা বর্তমান সরকারকে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করতে হচ্ছে।আতিকুর রহমান রুমন উল্লেখ করেন, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আপ্যায়ন ভাতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা হয়েছে। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে মাত্র ১১ লাখ ৬৯ টাকা। এ ছাড়া দুই ঈদে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন বাবদ সর্বমোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংসদে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করেছেন বলে জানান অতিরিক্ত প্রেসসচিব।তিনি বলেন, "প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান সকাল পৌনে ১০টায় সংসদে আসেন। তিনি শুরু থেকেই অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত ছিলেন এবং বাজেটের মঞ্জুরি দাবির ওপর ভোট গ্রহণসহ বিভিন্ন আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নেন।" এমনকি অধিবেশনের বিরতির সময়ও তিনি বিশ্রাম না নিয়ে বিভিন্ন জরুরি দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন এবং বেশ কিছু ফাইলে সই করেন।
রাজনীতি
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট-পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল, সাশ্রয় ৫০ লাখ টাকা

শেয়ার করুন







