হাজারো কিলোমিটারের দূরত্ব, দুই দেশের ভিন্ন সংস্কৃতি আর ভাষার ব্যবধান-কোনো কিছুই থামাতে পারেনি তাদের ভালোবাসাকে। প্রেমের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন চীনা যুবক লি বিং। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে বিয়ে করেছেন যশোর সদর উপজেলার বাউলিয়া গ্রামের মন্টু মোল্লার মেয়ে তন্দ্রা খাতুনকে।
জানা গেছে, তন্দ্রা খাতুন যশোর সদর উপজেলা পরিষদের তথ্যকেন্দ্রে কর্মরত। প্রায় আট মাস আগে ‘হ্যালোটক’ অ্যাপের মাধ্যমে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের বাসিন্দা লি বিংয়ের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে ‘উইচ্যাট’-এ নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে তাদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন তারা।
তন্দ্রা খাতুন বলেন, ১৮ জুন লি বিং বাংলাদেশে আসেন। পরদিন সন্ধ্যায় যশোর জজ কোর্টে ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের আগে লি বিং স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন।
তিনি বলেন, তিনি আমার জন্য চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। বিয়ের পর দুই দিন আমরা হোটেলে ছিলাম। এখন সে আমাদের বাড়িতেই আছে। আল্লাহর রহমতে আমরা ভালো আছি। ভিসার আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে আমি তার সঙ্গে চীন চলে যাবো।
লি বিং জানান, তিনি চীনের একটি স্মার্ট লক উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়।
বাংলাদেশে এসে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, আমার স্ত্রী খুব ভালো। বাংলাদেশের পরিবেশও খুব ভালো লেগেছে। শ্বশুরবাড়ির সবাই খুব আন্তরিক ও যত্নশীল। এখানে আমার কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। আমি বাংলাদেশকে পছন্দ করেছি। বিয়ে করতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত।
তন্দ্রার মা শিউলি বেগম বলেন, মোবাইল ফোনে তাদের পরিচয় হয়েছিল। ছেলেটি মেয়েকে বিয়ে করতে চীন থেকে বাংলাদেশে এসেছে। বিয়ের আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে। আমরা পরিবারের সম্মতিতেই তাদের বিয়ে দিয়েছি। মেয়ের সুখই আমাদের চাওয়া।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া পরিচয় থেকে দুই দেশের দুই তরুণ-তরুণীর এই বিয়ে এখন যশোরে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। ভাষা, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক দূরত্বের সীমারেখা পেরিয়ে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক ভালোবাসার এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
মিলন রহমান/এনএইচআর/এএসএম








