কলমাকান্দায় অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারের মানবিক সহায়তার তালিকায় এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার স্ত্রী ও নিকটাত্মীয়দের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গত রোববার পোগলা ইউনিয়নের পাবই গ্রামের বঞ্চিত কৃষকেরা নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ-সদস্য ও জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালসহ ইউএনও ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে মো. নুরে আলমসহ ২৪ জন স্বাক্ষর করেছেন। স্থানীয় কৃষক ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কলমাকান্দার আটটি ইউনিয়নের ৬ হাজার ৩২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের জন্য সরকারি প্রণোদনা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে পোগলা ইউনিয়নে ৬৮৭ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউনিয়নের ১ থেকে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহিনুর আলম প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে নিজের স্ত্রী, পরিবারের সদস্য ও নিকটাত্মীয়দের নাম তালিকায় যুক্ত করেন। এ কাজে ৬ থেকে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নূর খান সহযোগিতা করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এই দুই কর্মকর্তা সম্প্রতি অন্যত্র বদলি হয়েছেন। জানা গেছে, গত ১৭ জুন প্রথম ও দ্বিতীয় কিস্তির সহায়তা একসঙ্গে বিতরণ করা হয়। প্রত্যেক উপকারভোগীকে ৬ হাজার টাকা নগদ ও ৩০ কেজি চাল দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তালিকায় শাহিনুর আলমের স্ত্রী শাহিনুর আক্তারের নাম বাবার পরিচয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়া তার বড় ভাইয়ের স্ত্রীসহ পাবই গ্রামের অন্তত ১৫ জন নিকটাত্মীয়ের নামও তালিকায় রয়েছে। অভিযোগকারী নূরে আলম বলেন, শুধু এ প্রণোদনাই নয়, অতীতেও বিনামূল্যে সার, বীজ ও বিভিন্ন কৃষি সহায়তার তালিকায় স্বজনপ্রীতির কারণে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হয়েছেন। তাই অভিযুক্ত দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মো. শাহিনুর আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। আর মো. নূর খানের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযোগ জানার পর তালিকা থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার স্ত্রীর নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দের টাকা ফেরত এনে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে দেওয়া হবে। তিনি জানান, বিষয়টি তদন্তাধীন এবং এরই মধ্যে শাহিনুর আলম ও নূর খানকে পৃথক ইউনিয়নে বদলি করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। ইউএনও এসএম মিকাইল ইসলাম বলেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








