কাতার রাজপরিবারের উপহার দেওয়া ও পরবর্তী সময়ে নতুন করে সংস্কার করা ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ (Air Force One) উড়োজাহাজে প্রথমবারের মতো উড়াল দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার (১ জুলাই) নতুনভাবে সজ্জিত এই প্লেনে চড়ে উত্তর ডাকোটা যাওয়ার পথে ট্রাম্প এটিকে ‘এ যাবৎকালে নির্মিত সর্বশ্রেষ্ঠ বাণিজ্যিক বিমান’ হিসেবে অভিহিত করেন।

যৌথ ঘাঁটি অ্যান্ড্রুজ থেকে প্রায় ১৪ বছর পুরোনো এই জেটে চড়ার আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, আমি বোয়িং কোম্পানিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, ‘সবচেয়ে সেরা প্লেন কোনটি?’ তারা বলেছে এটিই এ যাবৎকালের নির্মিত সেরা বিমান ও আপনি এটিতে ওড়ার বিশেষাধিকার পেতে যাচ্ছেন; আমিও এই বিশেষাধিকার পাচ্ছি।

প্রেসিডেন্টের এই সফরে তার সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন এবিসি নিউজ- এর প্রধান হোয়াইট হাউজ সংবাদদাতা মেরি ব্রুস। তিনি ট্রাম্পের কাছে এই বিলাসবহুল উড়োজাহাজের সংস্কার কাজে মার্কিন জনগণের ট্যাক্সের টাকা ব্যবহারের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। কারণ এটি সম্ভবত ট্রাম্প কেবল একাই ব্যবহার করবেন।

জবাবে ট্রাম্প বলেন, দেখুন, আমরা যদি অন্য কোনো উপায়ে এটি তৈরি করতাম, তবে যে পরিমাণ খরচ হতো তার তুলনায় এই সংস্কারের খরচ খুবই সামান্য।

কাতার সরকারের উপহার দেওয়া ৪০০ মিলিয়ন (৪০ কোটি) ডলার মূল্যের এই জেটটি নিয়ে এরই মধ্যে কিছু আইনপ্রণেতা ও নীতিশাস্ত্র বিশেষজ্ঞদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে। কারণ বিদেশি রাষ্ট্রের কাছ থেকে এই ধরণের উপহার পাওয়ার ঘটনা মার্কিন ইতিহাসে নজিরবিহীন। তবে বুধবার (১ জুলাই) ট্রাম্প কাতার সরকারের প্রশংসাই করেছেন।

তিনি বলেন, সত্যি বলতে, আমরা এমন একটি প্লেন তৈরি করতে পারতাম না কারণ এর জন্য যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তা খরচ করতে আমরা রাজি হতাম না। তারা (কাতার) সর্বোচ্চ ডলার খরচ করেছে।

ট্রাম্প আর বলেন, আমাদের আগের এয়ার ফোর্স ওয়ানটির বয়স ছিল ৩৫-৩৬ বছর। সেটি যখন এই ধরণের নতুন বিমানের পাশে পার্ক করা থাকত, তখন আমাদের দেশের জন্য তা মোটেও উপযুক্ত দেখাতো না। তাই আমরা এটি নিয়ে বেশ গর্বিত।

গত বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে টেক্সাসে মার্কিন বিমান বাহিনী (U.S. Air Force) প্রেসিডেন্টের যাতায়াতের নিরাপত্তা, যোগাযোগ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় চাহিদা মেটাতে এই জেট বিমানটির সংস্কার বা আধুনিকায়নের কাজ করছিল। মার্কিন বিমান বাহিনী অনুমান করেছিল যে, এই উপহারের প্লেনটি সংস্কার করতে ৪০ কোটি ডলারের কম খরচ হবে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থার সাথে পরিচিত সূত্রগুলো এবিসি নিউজকে জানিয়েছে, ট্রাম্পের হোয়াইট হাউজ ছাড়ার ঠিক আগ পর্যন্ত এই প্লেনটি নতুন ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে ব্যবহৃত হবে। ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই বিমানের মালিকানা ‘ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প প্রেসিডেন্সিয়াল লাইব্রেরি ফাউন্ডেশন’-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বোয়িং কোম্পানি এরই মধ্যে পরবর্তী প্রজন্মের ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ হিসেবে নতুন এক ঝাঁক জেট বিমান তৈরির জন্য মার্কিন সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে, যা ২০২৮ সালের দিকে সরবরাহ করার কথা রয়েছে। অর্থাৎ ঠিক যে সময়ে ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হবে।

এয়ার ফোর্স ওয়ানের ভেতরের দৃশ্য

এবিসি-র সংবাদদাতা মেরি ব্রুসের ভাষ্যমতে, বিমানের ভেতরের রঙের বিন্যাস বা কালার স্কিমটি হালকা বেইজ ও ট্যান রঙের, যার মধ্যে সোনালী আভা ও গাঢ় কাঠের কারুকাজ রয়েছে। এর কার্পেটটি বেইজ রঙের, যাতে গাঢ় ট্যান ও ক্রিম রঙের স্ট্রাইপ বা দাগ রয়েছে।

প্রেস ক্যাবিনে ১৪টি শোয়া যায় এমন ‘লাই-ফ্ল্যাট পড’ রয়েছে, যার মধ্যে লাম্বার সাপোর্ট (কোমরের আরামদায়ক ব্যবস্থা) ও ম্যাসাজ ফাংশনের মতো বিলাসবহুল সুবিধাযুক্ত বড় বড় ট্যান লেদারের বা চামড়ার আসন রয়েছে। প্রতিটি আসনের পেছনে থাকা টেলিভিশনে হোয়াইট হাউজের পছন্দ অনুযায়ী কেবল চ্যানেল চালানো হচ্ছিল।

সূত্র: এবিসি

এসএএইচ