সৌদি আরব সফরে এসে বেশ কয়েকটি চুক্তি করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত একাধিক বিবৃতিতে মার্ক কার্নি জানান, তিনি স্বাস্থ্য প্রযুক্তি, খনি শিল্প, অবকাঠামো এবং প্রতিরক্ষা খাতের ওপর ভিত্তি করে ৭০ কোটি ডলার মূল্যের ১৩টি নতুন বাণিজ্যিক চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক বা এমওইউ নিয়ে ফিরেছেন। তিনি দুই দেশকে ‘যৌথ লক্ষ্য ও একে অপরের পরিপূরক অর্থনীতির দেশ’ হিসাবে অভিহিত করেন।

গত ২৫ বছরেরও বেশি সময় পর এটা কোনো কানাডীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সৌদি সফর। মিডল ইস্ট আইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, তুরস্কের আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ন্যাটো নেতাদের সম্মেলনে যোগ দেওয়ার পরপরই কার্নি সৌদি আরব সফর করেন। ওই সম্মেলনে জোটের প্রধান শক্তিধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের প্রশংসা করলেও পশ্চিমা মিত্রদের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।

গত বছর ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সম্পর্কের অবনতি হওয়ায় কার্নি তার দেশের দক্ষিণ দিকের প্রতিবেশীর ওপর নির্ভরতা নতুন করে সাজানোর চেষ্টা করছেন। ট্রাম্পের মতো তিনিও উপসাগরীয় অঞ্চলের দিকে মনোযোগ দিয়েছেন, যেখানে সরকারগুলোর হাতে প্রচুর অর্থ রয়েছে এবং তারা বিনিয়োগে আগ্রহী। জানুয়ারিতে কাতারে তার সফরটি ছিল কোনো কানাডীয় প্রধানমন্ত্রীর এ ধরনের প্রথম সফর।

কার্নি সৌদি আরবের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘বিশ্বের পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, যা অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মীদের জন্য অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। এর জবাবে কানাডা এমন সব বিষয়ের ওপর মনোযোগ দিচ্ছে, যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যেমন-দেশের অভ্যন্তরে সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য অংশীদারত্বে বৈচিত্র্য আনা এবং নতুন সব সম্পর্কের একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। এর অর্থ হলো বিশ্বের বৃহত্তম ও সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী অর্থনীতিগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করা।’

মধ্যপ্রাচ্যে কানাডার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার সৌদি আরব। ২০২০ সাল থেকে দেশ দুটির মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, সৌদি অর্থনীতির আকার ২ ট্রিলিয়ন ডলারের সামান্য কম, যেখানে কানাডার অর্থনীতির আকার এ পরিমাণের চেয়ে কিছুটা বেশি। আয়তনের দিক থেকে কানাডা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম দেশ। এ সপ্তাহে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর আওতায় কানাডীয় কোম্পানিগুলো সৌদি আরবে খনি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ এবং পরিচ্ছন্ন শক্তি বিষয়ক প্রকল্পে সহায়তা করবে; কানাডার অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো রিয়াদের ‘ভিশন ২০৩০’ প্রকল্পের অধীনে সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের মতো কাজে অংশ নেবে; কানাডার স্বাস্থ্য-প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো সৌদি আরবে অত্যাধুনিক বা ‘ইন্টেলিজেন্ট’ চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করবে। কার্নি জানান, উভয়পক্ষ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি প্রকল্প, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং কার্বন ক্যাপচার ও স্টোরেজ বা কার্বন নিঃসরণ রোধ ও সংরক্ষণ প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও সহযোগিতা জোরদার করবে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইর ক্ষেত্রে উভয় দেশ তাদের নিজস্ব এআই প্রতিষ্ঠান-কানাডার ‘কোহিয়ার’ এবং সৌদি আরবের ‘হিউমেইন’র মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের উন্নত এআই মডেল তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।